ঢাকা :

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি গতকাল সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত এক মাসে সারাদেশের দুই হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অসংক্রামক রোগের বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৭২ শতাংশের বেশি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয় হৃদরোগ ও স্ট্রোকে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রোগীকে নিজের আত্মীয় মনে করে আন্তরিকতা ও মমতার সাথে সেবা দিতে হবে। রোগীর সাথে সহজ ভাষায় চিকিৎসার বিষয়গুলো বুঝিয়ে বললে ভুল বোঝাবুঝি কমবে এবং চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। চিকিৎসকদের জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক আচরণ ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্রেস্টফিডিং কর্নার উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
-ত.বি.
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
ঢাকা, ২৫ আশ্বিন (১০ অক্টোবর): 
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। তরুণেরা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিলে সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা গতকাল ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণিজন সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, জীবনে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে সবকিছুর আগে একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জীবনের পরীক্ষায় ভালো মানুষ হওয়া।
উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকের অর্জনকে শেষ নয়, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে কবি, লেখক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে। তিনি বলেন, জীবনে যত বড়ই হও না কেন, নিজের শিকড়, পরিবার, শিক্ষক ও এলাকার কথা ভুলে যাওয়া যাবে না। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও কাজ করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী স্বপ্ন হারাবে না, কর্মসংস্থানের অভাবে কোনো তরুণ তার সম্ভাবনা হারাবে না এবং বিপদের সময় কোনো পরিবার নিজেকে অসহায় মনে করবে না-এমন একটি বৃহত্তর নোয়াখালী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। তবে এসব সমস্যার চেয়ে এ অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়ালে এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব। নিজের শিকড়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা নয়; বরং নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজের ইতিবাচক প্রভাব একসময় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, দেশের উন্নয়নে মানবিক ও দক্ষ মানুষ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের হয়। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা চর্চার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুল মালেক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *