ঢাকা :

      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের মতো জটিল দুর্যোগ ঝুঁকি রয়েছে। শুধু আগাম সতর্কবার্তা তৈরি করাই শেষ কথা নয়, তা যেন দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো ও সহজ ভাষায় পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইকো (ECHO) সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পাহাড়ে তাদের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

       আজ রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল আমারি’র ইডেন গার্ডেন বলরুমে আয়োজিত ‘সুরক্ষা (SURAKKHA)’ প্রকল্পের জাতীয় সুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

      পাহাড়ের পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়নের ব্যাপারে জোর দিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে বসবাসকারী স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির সহনশীলতার দিকটি খেয়াল রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তিনি প্রকৃতির ক্ষতি না করে বিশেষ পদ্ধতিতে বনায়ন বাড়ানো প্রয়োজনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

      পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রধান মৌলিক সমস্যাগুলোর মধ্যে সুপেয় পানি ও টেকসই স্যানিটেশন অন্যতম উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেছেন, পাহাড়ি এলাকায় প্রান্তিক জনগণের কাছে সুপেয় পানির সুবিধা ও ওয়াসরুম ব্যবস্থা পৌছে দিতে অবিলম্বে কার্যকারী উদ্যোগ নিতে হবে এবং গৃহীত প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

      কিশোর ও তরুণসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে স্মার্টফোন ও গেমিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে, যা বিগত সময়ে উপেক্ষিত ছিল।

       দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তা।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *