মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি।

শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ১৬ অক্টোবর ২০২৬ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়,
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিঃমিঃ সীমান্ত এলাকায় ব্যাটালিয়ন সদরের ০২-০৩ কিঃমিঃ এর মধ্যে দিনাজপুর শহর এলাকায় ২২টি, দিনাজপুর জেলার বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টিসহ সর্বমোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪টি পূজামণ্ডপই আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব নিকটে অবস্থিত। এ প্রেক্ষাপটে পূজার সময়সীমা জুড়ে মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে করে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন যেন তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পারেন।

এবিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি গুজবে কান না দেয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলকে আহবান জানান। এ বছর ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলি। “বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করা বিজিবির অন্যতম অগ্রাধিকার।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *