একটি মন্তব্যের জন্য ১৬ জুন মহুয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মন্তব্যের জন্য মহুয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে প্ররোচনা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া মামলা করলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তার অভিযোগ, ডিম-বর্ষণ নিয়ে তিনি যে এফআইআর করেছেন, তাতে কোনও গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ। অথচ তার বিরুদ্ধে থানায় রুজু হওয়া পুরনো একটি এফআইআর নিয়ে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় আদালতে রক্ষাকবচ চেয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। দ্বিতীয় মামলায় মহুয়ার আবেদন, বিরোধী দলের সাংসদ হিসেবে তাকে নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হোক। হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে আশ্বস্ত করুক, সাংসদ যাতে নিজের এলাকায় নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন। মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ৮ জুলাই এই জোড়া মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।আনন্দবাজার ডট কম

গত বুধবার নদিয়ায় কালীগঞ্জে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে তৃণমূল কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন মহুয়ারা। অভিযোগ, মহুয়াদের বৈঠক চলার সময় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন কয়েক জন। মহুয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। সাংসদের অভিযোগ, তারা বিজেপির কর্মি। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারায় মহুয়াকে একটি নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ইমেলের মাধ্যমে পাঠানো সেই নোটিসের জবাবও দিয়েছেন সাংসদ। তবে আদালতে মহুয়ার আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইন অনুযায়ী নোটিসটি যথাযথ ভাবে তার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়নি। উল্টে একটি নির্মীয়মাণ ভবনের দেয়ালে নোটিসটি সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছিল। মহুয়ার অভিযোগ, ২৮ জুন তার বিরুদ্ধে হোগালবেরিয়া থানায় যে এফআইআর দায়ের হয়েছিল, তা নিয়েও সক্রিয় হয়েছে পুলিশ।

একটি মন্তব্যের জন্য ১৬ জুন মহুয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। সাংসদ অনলাইন মাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, আদালতের বাইরে যারা তাকে ডিম ছোড়ার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাদের বোরখা পরা উচিত, যাতে মুখ না দেখা যায়। সেই মন্তব্যের জন্য মহুয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে প্ররোচনা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। মহুয়ার আশঙ্কা, ওই মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আর্জি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মহুয়া।

গত বুধবার মহুয়া গাড়ি থেকে নেমে কালীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার সময়েই কয়েক জন তাকে কালো পতাকা দেখান। ‘কে আছিস, সামনে আয়’ বলে কার্যালয়ের ভিতর ঢুকে যান তৃণমূল সাংসদ। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কার্যালয়ের দোতলা থেকে ফেসবুক লাইভ করতে থাকেন মহুয়া। তার অভিযোগ, বিজেপি নেতা-কর্মিরা এই ধরনের কাজ করে গেলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। লাইভে দেখা গেছে, কার্যালয়ের দোতলার জানলা লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। তার পরে থানায় এফআইআর করেছিলেন মহুয়া। এ বার তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *