দিনাজপুর প্রতিনিধি।।দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় এখন নেশাখোর ও মাদকের বিষাক্ত নিশ্বাসে ভারী হয়ে যাচ্ছে। কৃতী সন্তানদের কৃত্বিত্ব বিলুপ্ত হতে চলেছে সময়ের নষ্ট ছেলেদের অশুভ তৎপরতায় । দরিদ্র পিতার ঘাম ঝড়ানো টাকায় পড়ালেখা অথবা ব্যবসা করতে যাওয়া তরুণ তাজা যুবকটি একদিন নেশার কবলে পড়ে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজন থেকে দূরে সরে গিয়ে সেই যুবক একদিন হয়ে যাচ্ছে অসামাজিক পথভ্রষ্ট মানুষ। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপে থাকছে তার অবাধ বিচরণ। নেশার টাকা যোগাড় করতে সে পারে না, এমন কোনো কাজ নেই যে সে করে না। সামাজিকতা রক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যরা জোর চেষ্টা চালায় এই পথ থেকে তাকে নিবৃত্ত করার জন্য। এই জন্য নেশাখোরদের অবস্থান অর্থবৃত্তে উচুতে হলেও সম্মানের অংক থাকে সবার নিচে। ফুলবাড়ী উপজেলার পথে প্রান্তে নেশাখোর ও মাদকাসক্তের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ন কম নয়। কেননা এদের দৌলতই ফুলবাড়ী শহর থেকে উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে মাদক দ্রব্য ও নেশার সামগ্রী কোমল পানির মতো সহজ লভ্য হয়ে উঠেছে। চারিদিকে বেষ্টিত ভারতীয় সীমান্ত , এই উপজেলায় সীমান্তের ওপার থেকে আসা মদ, গাজা, আফিম, ফেনসিডিল, ঘুমের বড়ি, প্যাথেডিন ট্যাবলেট, ইনজেকশন, অ্যালকোহল এবং মরণ নেশা হেরোইন, বাবাসহ সকল প্রকার মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্যবসা ও অন্যান্য ছদ্মা বরণে মাদকদ্রব্য ও নেশার সামগ্রী বিক্রি করে থাকে। এসব ব্যবসায়ীর নীল দর্শনে তরুণ যুব সমাজ নেশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। বর্তমান নেশার সামগ্রী হিসেবে অধিক ব্যবহৃত কম দামের মাদকগুলি ব্যবহার হচ্ছে। সাধারণ উঠতি বয়সের তরুণ ও যুব সম্প্রদায় এর ক্রেতা। সকল নেশার সামগ্রী চোরা পথে আসছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গৌরিপাড়া, কাজীবাড়ী রোড, পশ্চিম গৌরিপাড়ার পার্বতীপুর রোড, চকচকা, চক সাহাবাজপুর, মধ্য কাঁটাবাড়ী, বারোকোনা, কানাহার, ঘাটপাড়া, উত্তর সুজাপুর, শিবনগর, কাজীহাল, এলুয়ারী, আলাদীপুর, বেতদিঘী, খয়েরবাড়ী, দৌলতপুরসহ এবং ফুলবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় চোয়ানি সহ নানা প্রকার মাদক বিক্রি হচ্ছে। এ সব মাদক বিক্রি বন্ধ কল্পে মাদক বিরোধী সভা, কমিটি সহ নানা প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীরা অতি কৌশলে মাদক বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। ফুলবাড়ী থানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করলেও তারা আইনের ফাঁক ফোকড়ে বের হয়ে এসে আবার ও মাদক ব্যবসা করছে। কারণ তাদেরকে মামলা চালাতে হচ্ছে অপরদিকে তার জীবিকায় পরিবার চালাতে হচ্ছে। আর মাদক বিক্রির নগদ টাকা পাচ্ছে। কৌশল করে অনেকে মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনে গিয়ে নিরাপদ স্থানে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মাদকের ব্যবসা করছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল কোনোভাবে সম্ভব না হলেও মাদক নিমূর্লে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এই সমাজের যুবকরা ধ্বংসের পথে চলে যাবে। Post Views: 11 Post navigation দিনাজপুরে ফুলবাড়ী (২৯ বিজিবি) অচিন্তপুর ও আমড়া সীমান্ত এলাকায় দেড় লক্ষ টাকার মাদক আটক দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে লোগেন হাসদা নামে এক সাপুড়ের মৃত্যু