সিভিল সার্জনের তদন্তের নির্দেশ মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর: দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ী পানির ট্যাঙ্কি মোড় সংলগ্ন ‘স্বদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ সিজারিয়ান অপারেশনের পর একদিনের ব্যবধানে দুই প্রসূতি নারীর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবায় চরম অবহেলা এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।প্রসূতিরা হলেন—শহরের মিতু বেগম (স্বামী: শামসুল আহমেদ) এবং চাঁন্দগঞ্জ এলাকার কবিতা রায় (স্বামী: রনি রায়)।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসব বেদনা নিয়ে স্বদেশ ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া মিতু বেগমকে সিজারিয়ান অপারেশন করেন গাইনি চিকিৎসক ডা. ফারহানা আইরিন। অপারেশনের পর প্রসূতি নারীর অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।একইভাবে গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় আরেক প্রসূতি কবিতা রায়কে। সকাল ৬টা ৭ মিনিটে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন গাইনি চিকিৎসক ডা. রাজিয়া সুলতানা সোমা। অপারেশনের পর তারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিরাচরিত একই কায়দায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয় এবং সেখানে তারও মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, পরপর দুটি মৃত্যুর পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে ‘জীবনের মূল্য’ হিসেবে জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা করে মোট ৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে কোনো লিখিত সমঝোতা বা দাপ্তরিক নথিপত্র ছাড়াই মৌখিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কি একটি তাজা প্রাণের মূল্য মাত্র আড়াই লাখ টাকা?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসার চরম গাফিলতি ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে অকালে ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিন দিন চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে দিনাজপুরের সিভিল সার্জনের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, দুটি পৃথক সিজারিয়ান অপারেশনের পর রোগীদের অবস্থার অবনতি, অপারেশন পূর্ব ও পরবর্তী চিকিৎসাসেবা, রোগী রেফার করার সময়কাল এবং সার্বিক রেফারেল ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সিভিল সার্জন আরও বলেন, এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসার যাবতীয় নথিপত্র, অপারেশন থিয়েটারের রেকর্ড, অ্যানেসথেসিয়া চার্ট, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র, রেফারেল নথি এবং মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা ও দায়দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। Post Views: 9 Post navigation বাগাতিপাড়ায় অবৈধ চক্ষু ক্যাম্প বন্ধ করল প্রশাসন নবজীবন নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগেসাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন এডিসি