ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতা:

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগে সপ্তাহের ব্যবধানে ৫টি অবৈধ ক্যাম্প বন্ধ করলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সৈকত মোঃ রেজওয়ানুল হক।

মঙ্গলবার(৩ নভেম্বর) উপজেলার ২ টি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প বন্ধ করা হয়। বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের যোগীপাড়া মোড় এলাকায় সাদিয়া মেডিক্যাল হল এ ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন রাজশাহীর আম চত্ত্বর এলাকার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের ২ জন স্টাফ। ফাগুয়ারদিয়াড় ইউনিয়নের পাচুড়িয়ায় অবস্থিত রিয়াজুল জান্নাত মাদ্রাসায় অপর ক্যাম্পটি পরিচালনা হচ্ছিল বনপাড়া ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে।
এছাড়াও গত কয়েকদিন পূর্বে জামনগর ইউনিয়নে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে অবৈধ চক্ষু ক্যাম্প বন্ধ করা হয়। ৩১ অক্টোবর পাকা ইউনিয়নের চকগোয়াশ বেগুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিষণ কেয়ার চক্ষু হাসপাতাল একটি ক্যাম্প পরিচালনার জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক সে ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ ও ১ নভেম্বর সকাল থেকে বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার প্রি-ক্যাডেট স্কুলে মদিনা চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারের পরিচয়ে দুই ব্যক্তি চক্ষু ক্যাম্প চালানোর সময় তা বন্ধ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালের পরিচয়ে আসা দুইজন করে ব্যক্তি পরিচালিত ক্যাম্পে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। তবে তারা চক্ষু বিশেষজ্ঞ না বলে জানা যায়। এ ছাড়া ক্যাম্প থেকেই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ, ট্যাবলেট ও চশমা বিক্রি করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি হাসপাতালের নামে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা নেয়া হয়। ক্যাম্পে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদান এবং ওষুধ ও চশমা বিক্রির কার্যক্রম চলে।
এমনকি চোখে ছানি রয়েছে এমন রোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও চক্ষু অপারেশনের কথা বলে অগ্রিম টাকা নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট দিনে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে অপারেশনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে অসহায় ও সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ এসব ক্যাম্পে অনেক সময় কোনো নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞ উপস্থিতি থাকে না।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গিয়ে আমরা ক্যাম্প পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদনপত্র দেখতে চাই। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।

পরে ক্ষমা চাইলে ও ভবিষ্যতে এমন অননুমোদিত ক্যাম্প আয়োজন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও তাদেরকে লিখিত ভাবে দাপ্তরিক কাগজ পাঠিয়ে অননুমোদিত ক্যাম্প চালানোর কারন দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে এবং পরবর্তী একই অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাগাতিপাড়ায় কোথাও এ ধরনের চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদনপত্র থাকতে হবে। অনুমোদনবিহীন ভাবে কোন ক্যাম্প আয়োজন হতে দেখলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানান তিনি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *