অভিনয় আর রাজনীতি একসঙ্গে হয় না! বর্তমান সরকারের কাছে আশা, যোগ্যরা যেন সুযোগ পান: চৈতিঅভিনয় থেকে এ বারে পরিচালকের ভূমিকায় চৈতি ঘোষাল। মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘নেভারমাইন্ড’। অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও চৈতির পুত্র অমর্ত্য রায়।বিনোদন ডেস্ক : অভিনয় থেকে এ বারে পরিচালকের ভূমিকায় চৈতি ঘোষাল। মুক্তি পেয়েছে তার ছবি ‘নেভারমাইন্ড’। অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও চৈতির পুত্র অমর্ত্য রায়। ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক, আরজি কর আন্দোলন থেকে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন— আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বললেন চৈতি ঘোষাল। প্রশ্ন: ছোটপর্দা, বড়পর্দা ও মঞ্চে অভিনয়ের পরে এ বার পরিচালকের ভূমিকায়। সবটাই পরিকল্পিত? চৈতি: ছবি পরিচালনার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। মিতালি ও সম্রাটের চিত্রনাট্য পড়েছিলাম। খুব ভাল লেগেছিল। পড়তে গিয়ে গলা ধরে এসেছিল। শুধু মনে হত, এই গল্পটা মানুষকে বলা দরকার। আবেগের জায়গা থেকেই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিই। প্রশ্ন: আবেগের জায়গা থেকেই পেশাদার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন? চৈতি: অভিনয়ের সিদ্ধান্তও আবেগের জায়গা থেকেই তৈরি হয়েছিল। আসলে আমার প্রথম অভিনয় মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে। তবে বড় হওয়ার পরে সব দিক বিবেচনা করেই অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অভিনয়টাই করতে চেয়েছিলাম। তবে পরিচালনা নিয়ে তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। সৃজনশীল স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি এই কাজটা করতে গিয়ে। শিখেওছি অনেক। বাংলা ছবিতে পরিচালককে সমস্ত দিকটাই তদারকি করতে হয়। তা ছাড়া অমর্ত্য আমাকে খুব সাহায্য করেছে। প্রশ্ন: আপনার অভিনয় সফরে আপনার বাবার কি অনেকটাই প্রভাব রয়েছে? চৈতি: আমার বড় হওয়ার মধ্যেই বাবার প্রভাব রয়েছে। বাড়িতেই চলচ্চিত্র, নাটকের চর্চা হত। প্রতি রবিবার বাড়িতে নাটকের মহড়া চলত। ওই দিনগুলোয় দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে মহড়ায় যোগ দিতাম। মা সকলের জন্য সেই দিন মাংস-ভাত রাঁধতেন। প্রশ্ন: বাবাও চলচ্চিত্রজগতের মানুষ। এর কি সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই ছিল? চৈতি: শ্যামল ঘোষালের কন্যা হিসেবে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কিন্তু অনেকেই আমার কাছে কাজের কোনও প্রস্তাব নিয়ে আসার আগে একাধিক বার ভাবতেন। তারা মনে করতেন, হয়তো বাবা আমাকে অনুমতি দেবেন না। অথবা আমার সঙ্গে সাধারণ কথাবার্তা বা আলাপ করার আগেও তারা ভাবতেন। তবে আমার সঙ্গে সবাই খুব ভেবেচিন্তেই কথা বলতেন। প্রশ্ন: শোনা যায়, অভিনয়জগতে প্রায়ই মহিলাদের কুপ্রস্তাবের মুখে পড়তে হয়। সে সব তা হলে আপনি এড়িয়ে চলতে পেরেছেন? চৈতি: এ সব বহুদিন ধরেই রয়েছে এই জগতে। কিন্তু আমাকে কখনও এ সবের মুখোমুখি হতে হয়নি। তার কারণই হল আমার বাবা। খারাপ প্রস্তাব তো আসেইনি। তবে সেই সঙ্গে ভাল কাজের প্রস্তাব দেয়ার আগেও অনেকে ভাবতেন। প্রশ্ন: এই নিয়ে কোনও আক্ষেপ আছে? বা মনে হয়েছে, টলিউডে সেই ভাবে আপনাকে ব্যবহার করা হল না? চৈতি: মঞ্চের ক্ষেত্রে চরিত্র নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। ‘ডাকঘর’-এর অমল, ‘চতুরঙ্গ’-এর দামিনী, ‘রক্তকরবী’র নন্দিনীর মতো চরিত্রে কাজ করেছি। ছোটপর্দার কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ঘরে ঘরে পৌঁছেছিলাম ছোটপর্দার জন্যই। তবে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সত্যিই মনে হয়, আমি সঠিক চরিত্র পাইনি। উপযুক্ত চরিত্রে আমাকে কাস্ট করা হয়নি। কিন্তু আমি তেমন মানুষ নই যে, পরিচালকদের কাছে গিয়ে বলব, ‘আমাকে কাস্ট করো।’ আমার কাজের মাধ্যমে নিজেকে যতটা তুলে ধরা যায়, সেটা চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার পরেও তারা আমাকে কেন নেননি, সেটা দুর্বোধ্য। তবে যেটুকু কাজ করেছি, সম্মানের সঙ্গে করেছি। সেটাই বা কম কী! আরও চার জন বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করলে কি আমি আরও বড় হতাম! প্রশ্ন: অপর্ণা সেনের ছবিতে প্রথম কাজ। তার পরে তার আর কোনও ছবিতে কাজ করা হল না কেন? চৈতি: অপর্ণা সেন আমাকে আর ডাকেননি। তিনি হয়তো মনে করেননি, আমাকে আর কোনও চরিত্রে নেয়া যায়। তিনি আমার নাটক দেখেছেন। আমার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক। কিন্তু আমাকে আর কেন নেননি, তা তিনিই বলতে পারবেন। আমি কখনও প্রশ্ন করিনি, ‘কেন আমাকে আর নিলেন না?’ অবশ্য আমার কখনও মনেও হয়নি যে, ওই ছবিগুলোতে কাজ করতে না পেরে আমার বিরাট ক্ষতি হয়েছে। তবে কাজের সুযোগ পেলে উপভোগ করেই করতাম। এটা আমার অহঙ্কার নয়, আত্মবিশ্বাস। প্রশ্ন: নিজেও কি চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে কিছুটা সীমিত রেখেছেন? চৈতি: হ্যাঁ। আমিও বহু কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার কাছে বিষয়টি বড় চরিত্র বা ছোট চরিত্র নয়। চিত্রনাট্য পড়ে যেন চরিত্রটিকে জীবন্ত মনে হয়। প্রশ্ন: ‘নেভারমাইন্ড’ ছবিতে একাধারে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রযোজক ও অভিনেত্রী। তাকে পরিচালনা করার মুহূর্তগুলো কেমন ছিল? চৈতি: ঋতু আমার বহুদিনের বন্ধু। কিন্তু কাজের জায়গায় কেউ কারও বন্ধু বা পরিবার নয়। দু’জনে যথেষ্ট ভেবে এই কাজের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। অন্য প্রযোজকের প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু ঋতু কাজটা করায় আমাদের সুবিধাই হয়েছে। প্রযোজক যদি নিজেও সৃজনশীল হন, তাতে ছবির ভালই হয়। কিন্তু ও প্রতিটি চরিত্র করার আগে সাদা পাতার মতো থাকে। এই ছবিটির আগেও তা-ই ছিল। একটা নতুন চরিত্র গ্রহণ করার আগে নিজেকে শূন্য করে ফেলে ও। এই জন্য ওকে অভিনেত্রী হিসেবে অনেক নম্বর দিই। প্রশ্ন: এক দিকে বন্ধু, আর এক দিকে পুত্র। অভিনেতা অমর্ত্যকে কী ভাবে পরিচালনা করলেন? চৈতি: অমর্ত্য এর আগে বেশ কিছু ভাল কাজ করেছে। অজয় দেবগনের ‘ময়দান’ ছবিতে কাজ করেছে। ওর পরিচালিত ছবি দেশবিদেশে যাচ্ছে। ও পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছে। চলচ্চিত্রকে শুধুই গ্ল্যামারের চোখ দিয়ে ও দেখে না। এখানে ঠিক অন্য কলাকুশলীদের মতো করেই ও কাজ করেছে। আবার মুম্বইয়ে ২৫০ কোটির ছবিতেও কাজ করেছে। এফটিআই থেকে পড়া ছেলেমেয়েরা আবেগে ভেসে যায় না, এটা একটা সুবিধা। আমিও আমার এই ছবির জন্য এমনই একজন পেশাদার ছেলেকে পাই, যার নাম অমর্ত্য (হাসি)। বাড়িতে আবার ওর অন্য রূপ। প্রশ্ন: কীরকম? চৈতি: সেটে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে। কাজ সেরে বাড়িতে ফেরার পরে ও বলত, “মা গিজ়ারটা চালিয়ে দাও।” বাড়িতে আর আমি পরিচালক নই। তখন আমি মা। প্রশ্ন: ‘মহিলা পরিচালক’ বিষয়টিকে এখনও সেই ভাবে উদ্যাপন করা হয় কি না, তা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। কাজ শুরুর আগে বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলেন? চৈতি: এই ছবিতে পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার প্রত্যেকে মহিলা। ছবির মূল অভিনেতাও একজন মহিলা, যদিও এই ছবি নারীকেন্দ্রিক নয়। এই ছবি শহরের একটি রাতকে কেন্দ্র করে। প্রশ্ন: কিন্তু আজও তো মহিলা ও পুরুষ অভিনেতাদের মধ্যে পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা হয়। চৈতি: এই ছবির পরিচালনা আমি অর্থের বিনিময়ে করিনি। আমি স্বেচ্ছায় পারিশ্রমিক নিইনি। আসলে যা-ই হোক, এক জন নতুন পরিচালককে তো শেষপর্যন্ত প্রযোজক একটা সুযোগই দেন। ঋতু আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে, এটাই বড় ব্যাপার। আর ছোটপর্দায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু আমি পুরুষ অভিনেতার চেয়ে সব সময়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছি। ছোটপর্দার ইন্ডাস্ট্রিতে কিন্তু মহিলাদের পারিশ্রমিক বেশি। কিন্তু বড়পর্দার ক্ষেত্রে বিষয়টা সত্যিই উল্টো। আসলে এখনও মনে করা হয়, নায়ককেন্দ্রিক ছবিই দর্শক টানতে পারে। এক দিন এই ধারণা বদলাবে আশা করি। আসলে অল্প পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে নিজেদেরও ‘না’ বলতে শিখতে হয়। কিন্তু সেটা ক’জনই বা বলতে পারে! প্রশ্ন: ক্ষমতার বিরুদ্ধে কি আজকাল কথা বলতে সকলেই ভয় পায়? ক্ষমতার ‘হ্যাঁ’তে ‘হ্যাঁ’ মেলানোই কি সহজ পথ? প্রশ্ন করতে মানুষ ভুলে যাচ্ছে? চৈতি: প্রশ্ন করতে মানুষ ভুলে যাচ্ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তো ক্ষমতা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। আমি তো সবচেয়ে বড় ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। সেই আন্দোলনে হিংসা ছিল না, ত্যাগ ছিল। অনশনও করেছি। আরজি করের মতো ভয়াবহ ঘটনা জানার পরে, খেতে, চুল আঁচড়াতে, চোখে কাজল দিতেও পারতাম না। একটা সময়ে একাধিক ধারাবাহিক থেকে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ক্রমশ সে সব কাজের প্রস্তাব আসা বন্ধ হয়ে গেল। আমাকে তো ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও কখনও দেখা যায়নি। এটা আমার দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছিল। আসলে বৈভব কখনও আমার মাথা ঘোরাতে পারেনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যদি কাজ হারাতে হয়, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। প্রশ্ন: আগের সরকারের সঙ্গে দূরত্ব ছিল। বর্তমান সরকারের থেকে ডাক এলে যাবেন? চৈতি: আমাকে কিন্তু কেউ বামফ্রন্ট সরকারের মঞ্চেও দেখতে পায়নি। আমার রাজনীতি আমি কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করি। আমি দলীয় পতাকা নিয়ে হাঁটব না। কখনও অভিনয়, কখনও রাজনৈতিক কাজ— এই ভাবে আসলে রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতিতে ২৪ ঘণ্টাই দিতে হয়। নতুন সরকারের থেকে একটাই চাওয়া, পশ্চিমবঙ্গে যেন অর্থনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান— এই দিকগুলির উন্নতি হয়। আমার ছেলেও শহরের বাইরে কাজ করতে যায়। আমি তো চাইব, আমার ছেলে যেন বাংলা ছবিতে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। সরকার যেন মুক্ত একটা সমাজ দেয়, যেখানে শিল্পীরা শিল্পীদের কাজ করেন এবং রাজনীতিকরা রাজনীতি করেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন যোগ্যরা সুযোগ পান। রাজ্যটা অযোগ্যে ভরে গিয়েছিল। প্রশ্ন: এই প্রসঙ্গে আপনার জগতের রাজনৈতিক মানুষ পাপিয়া অধিকারী বা রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে কথা হয়েছে? চৈতি: বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে পাপিয়াদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক। সেই সময়ে পাপিয়াদির মা অর্থাৎ কল্যাণী জেঠিমাকেও চিনতাম। এনএফডিসি-র একটি ছবিতে কাজ করেছিলাম পাপিয়াদির সঙ্গে। তখন আমি শাড়ি পরতে পারতাম না। পাপিয়াদি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ওর রাজনৈতিক মত কী, জানতাম না। ওর সঙ্গে সম্পর্কটা সেখানেই আছে। ‘এক আকাশের নীচে’ ধারাবাহিকে রুদ্র আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছিল। ‘নেভারমাইন্ড’ ছবিতেও একটি চরিত্রের জন্য ওকে বলেছিলাম। তখনও সরকার বদল হয়নি। কিন্তু শেষপর্যন্ত সময়ের জন্য ও কাজটা করতে পারেনি। ওর দল দেখে নয়, অভিনয় দেখেই ছবিতে চেয়েছিলাম। ওদের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক ছিল, তেমনই আছে। যেহেতু ওরা রাজনীতিতে আছেন, তাই বলব, যোগ্যদের যেন স্থান দেয়া হয়। প্রশ্ন: বিভিন্ন মাধ্যমে অভিনয়, পরিচালনা, ছেলেকে বড় করা, বাড়িতে নিয়ম করে পুজোর আয়োজন— একাই সামলান? না কি অমর্ত্য সহযোগিতা করে? চৈতি: নিজের সিদ্ধান্তে অনেক অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলাম। বলা ভাল, অমর্ত্য আর আমি একসঙ্গে বড় হয়েছি। বড়দিদির মতো করে ওর সঙ্গে মিশেছি। অমর্ত্য আমার খুব ভাল বন্ধুও। ওর সঙ্গে বা ওর বন্ধুদের সঙ্গেও আমার কোনও ‘জেনারেশন গ্যাপ’ নেই। আর আমি বাচ্চাদের সঙ্গে বাচ্চাদের মতো করে মিশতে পারি। কর্মজীবনে অমর্ত্য কতটা সফল হবে, জানি না। কিন্তু ওর মতো স্বভাব, দয়ামায়া খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। ও আমার মাকেও খুব যত্ন করে দেখেছে। আজকালকার ছেলেমেয়েরা ক্ষমা করতে জানে না। অমর্ত্য কিন্তু ক্ষমা করতে জানে। দেখে মনে হয়, ও হয়তো ছোট থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। তা কিন্তু নয়। ছোট থেকে বিভিন্ন জায়গায় ও বঞ্চিতও হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর জন্য ওর মনের ভিতরে কোনও তিক্ততা নেই। বাইরে থেকে হাসিখুশি, প্রাণবন্ত। কিন্তু ওর ভিতরে একটা দুঃখ পাওয়া ছেলেও বাস করে। ও তো গানও লেখে। ছবির চরিত্রও এই জন্যই ও ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। ওর চোখের মধ্যেই দুঃখটা আছে। প্রশ্ন: ‘জেন জ়ি’দের সম্পর্কের অভিধান বেশ ভিন্ন। আপনার থেকে সম্পর্ক নিয়ে কোনও পরামর্শ পায় অমর্ত্য? চৈতি: আমি ভালবাসায় বিশ্বাসী। আমি নিজে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকেছি। ভালবাসা থাকলেই একটা বিয়ে টেকে। প্রচুর ঘাত-প্রতিঘাত আসে। কিন্তু কোথাও ভালবাসা ও টান থাকে বলেই সম্পর্ক টিকে যায়। আমার মা-বাবা খুব গল্প করতেন। ওদের মধ্যে কথা ফুরিয়ে যেত না। তবে বাবিকে (অমর্ত্য) আমি সম্পর্ক নিয়ে কোনও পরামর্শ দিই না। আজকের দিনে দেবা-দেবী কেউ কম যায় না! (হাসি) বরং দেবীকে আমিই বলি, ‘কী এমন অমর্ত্য! তুইও কিছু কম নোস।’ আসলে ওদের বন্ধু হতে হবে। তাই আমার ছবিতেও নতুন প্রজন্মের প্রভাব রয়েছে। আজকাল বেশিরভাগ বাংলা ছবিতেই কিন্তু প্রধান চরিত্ররা বেশ বয়স্ক। সেই জায়গায় এই ছবি আলাদা। প্রশ্ন: ছবিতে রূপম ইসলামের গানও নতুন প্রজন্মের কথা ভেবেই? চৈতি: রূপম ইসলামের বয়স হয় না। তিনি জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড। সেই আগুনের ফুলকি নতুনদের মধ্যে পৌঁছে যায় অনায়াসেই। যে কথা ছবির সংলাপে বলা হল না, সে কথা রূপমের গানে প্রকাশ পায়। প্রশ্ন: তা হলে কি এ বার থেকে নিয়মিত আপনাকে পরিচালক হিসেবে দেখা যাবে? চৈতি: আশা করছি, আমি পরবর্তী ছবির ঘোষণা খুব শিঘ্রই করতে পারব। (হাসি) -স্বরলিপি দাশগুপ্ত Post Views: 15 Post navigation ২৫ বছরের পরিচয়, যোগাযোগ হারিয়ে আবার কাছাকাছি, গৌরীর সঙ্গে কী ভাবে আলাপ আমিরের? ‘আলফা’ মুক্তির পর থেকেই সমালোচিত আলিয়া, তাঁর ঢাল হয়ে এলেন কর্ণ, পাল্টা কী বললেন?