শনিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি আপাতত তিনিই রাজ্য সংগঠনের দায়িত্ব সামলাবেন। এই মুহূর্তে নতুন কাউকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব না দেয়ার সিদ্ধান্তও তিনি কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কে আসল তৃণমূল, প্রমাণ করতে নির্বাচন কমিশনে নথি এবং তথ্য জমা দিতে হবে ৬ জুন, সোমবার বিকেলের মধ্যে। আর তার ঠিক আগেই রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ কি কমিশনের সামনে আরও বিড়ম্বনায় ফেলল কালীঘাট তৃণমূলকে?
আনন্দবাজার ডট কম

চন্দ্রিমার পদত্যাগ নিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘কেউ আর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে থাকতে চাইছেন না।’’ শিবিরের আরও এক বিধায়ক বলেন, ‘‘আমাদের কমিটি তৈরি হয়েছে ২২ জুন। সেই কমিটি গঠন সংক্রান্ত নথি জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তার পর থেকে আমাদের দলে কোনও ভাঙন নেই। উল্টোদিকে ওদের প্রত্যেক দিনই কমিটি বদলাচ্ছে।’’ বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সাংসদ মালা রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘কমিটির মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী দল ছেড়ে ইতিমধ্যেই এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। আর যাকে রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছিল, তিনিও পদত্যাগ করেছেন। যে কমিটি আর নেই, তার দাবিকে নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দেবে?” শুধু মালা রায় নন, ভোটের পর কালীঘাট তৃণমূলের গড়া প্রথম দিকের কমিটিতে যুব সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন সায়নী ঘোষ। তিনিও এখন বিদ্রোহী। জাতীয় কর্মসমিতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অর্থাৎ চন্দ্রিমার পদত্যাগের বিষয়টি যে কমিশনের সামনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাতিয়ার করবে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অন্য দিকে, চন্দ্রিমার পদত্যাগ আইনগত দিক থেকে বিদ্রোহীদের খুব জোরালো হাতিয়ার হবে না বলেই দাবি কালীঘাট তৃণমূলের একাধিক বর্ষীয়ান নেতার। তাদের যুক্তি, দলের তরফে নির্বাচন কমিশনে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেই চিঠি গত ১৫ জুন দেয়া হয়েছে। সেখানে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম নেই। ২২ জুন কমিশনকে পাঠানো হয়েছে দলের পদাধিকারী এবং জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যদের নাম। জাতীয় কর্মসমিতিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একজন সদস্য মাত্র। আর বাকি যাদের নাম উঠছে (মালা রায়, সায়নী ঘোষ বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) তাদের নামই নেই কমিশনে পাঠানো তালিকায়।

তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “একজনের পদত্যাগে কিছু আসে-যায় না। দেশে আইন রয়েছে, সেই আইনের ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেব। একজন পদাধিকারী ইস্তফা দিলেই যে আমরা বিপাকে পড়ব, বিষয়টি তেমন নয়। আমরা আমাদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।”

তবে শনিবার সমাজমাধ্যমে লাইভ ভিডিয়োয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় প্রতীক হারানোর আশঙ্কা প্রতিধ্বনিত হয়েছে বার বার। সোমবার দু’পক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে, কালীঘাট না বিদ্রোহী, কোন পক্ষের দখলে থাকবে দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *