আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে’ তার দেশ। সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আরও লিখেছেন, সম্প্রতি ইরানের ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ করার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিতে রাজি হয়নি দক্ষিণ কোরিয়া।বিবিসি

ট্রাম্প লিখেছেন, “এই মহড়াগুলো শুধু যে ব্যয়বহুল তা-ই নয়, ‘বরাবরের মতো’ এর বড় অংশের খরচ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। একই সঙ্গে এগুলো পুরোপুরি অনুচিত ও বৈরী একটি বার্তা দেয়।”

তবে, সোল (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ‘নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী’ চলবে।

কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী)।

এর আগে, চলতি মাসেই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

আর এরপরই ওই মার্কিন ঘোষণা এলো।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মহড়া বাতিল করার জন্য “এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে”, কারণ সোমবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাপারটা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও (?), সম্প্রতি আমি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তারা ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ মিশনে আমাদের সাথে যোগ দিতে চায় কী-না, কিন্তু তারা আমাকে বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!'”

ট্রাম্পের এ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে তিনি ২০১৮ সালে কিম জং আনের সঙ্গে তোলা নিজের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ছবিতে তাদের দেখতে বন্ধুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, বাস্তবে তারা দু’জন খুব ভালো বন্ধু।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেন।

তারা জানান, ১১ দিনের এ মহড়া আগের বছরগুলোর মতোই হবে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনাসদস্য অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তারা রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশ নেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

যুদ্ধ করে ফিরে আসা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের প্রসঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রায়ান ডোনাল্ড বলেন, “আমাদের সামরিক প্রশিক্ষণে ওই হুমকির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়ে একে “আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি” বলে অভিহিত করেছে।

এই যৌথ সামরিক মহড়ার কয়েক দিন আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি ধরা পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের নজরদারিতে।

২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সঙ্গে কিম জং আনের কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে উত্তর কোরিয়া।

সাত বছর আগে উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে সরাসরি সামরিক বা অন্যান্য সহায়তা দিতে সোল রাজি না হওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

এর আগে, জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ অন্য মিত্র দেশগুলোও এ সংঘাতে জড়াতে না চাওয়ার কারণেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্প এবারই প্রথম নেননি।

২০১৮ সালে কিম জং আনের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন।

এরপর কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালেও মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল।

পাশাপাশি, গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

মূলত, ১৯৫৩ সালে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ থেমেছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করার কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।

ফলে আইনের দিক থেকে দুই কোরিয়া এখনো যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে।

Article Information
Author,ব্র্যান্ডন ড্রেননReporting from,ওয়াশিংটন ডিসি এবং Author,জেক কওনRole,সোল সংবাদদাতা

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *