· এসএমই ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা’ প্রতিযোগিতায় উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ২৫জন উদ্যোক্তা পেয়েছেন ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ০৯ জুলাই ২০২৬ রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা-ইউনিডো, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও পণ্য প্রদর্শন এবং সার্কুলার উদ্যোগ বিষয়ে নীতি সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিআইএম-এর মহাপরিচালক মো. সালিম উল্লাহ, ইউনিডো’র ইউনিট চিফ জেরোম স্টাকি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার। বক্তব্য প্রদান করেন নরওয়ে দূতাবাসের প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম এবং জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং জলবায়ু পরিবর্তন উপযোগী উদ্যোগের বৃদ্ধি প্রয়োজন। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউনিডো -এর যৌথ উদ্যোগে দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (Cleantech), সার্কুলার অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে Cleantech Accelerator and Commercialization Programme বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যবসায়িক সমাধানসমূহ চিহ্নিতকরণ, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিকীকরণ সহায়তা এবং বিনিয়োগ সংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে আয়োজিত প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা’ প্রতিযোগিতায় প্রাথমিকভাবে সারা দেশ থেকে আবেদনকারী উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে নারী, শিক্ষার্থী, বেসরকারি সংস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের ৬৪১জন উদ্যোক্তার কাছ থেকে পাওয়া আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০জন উদ্যোক্তার মধ্য থেকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২৫জন উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে প্রথম ৩জনকে ৫ লাখ টাকা করে, পরবর্তী ৭জনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে এবং পরবর্তী ১৫জন উদ্যোক্তাকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন, আমরা যদি উৎপাদন ও ভোগের প্রতিটি ধাপে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারি এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি, তবে একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার অভাবে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদন বলছে, দেশে বছরে ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে পুনর্ব্যবহার হয় শতকরা মাত্র ৩১ ভাগ। শুধু ঢাকায়ই প্রতিদিন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় সারা দেশের শতকরা ১০ ভাগ বা ৬৪৬ টন। পুনর্ব্যবহার হয় শতকরা মাত্র ৩৭ ভাগ। সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) এবং ১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন) বাস্তবায়ন সহজতর হবে। SME Foundation পেজ থেকে Post Views: 23 Post navigation জাতীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা