মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মুর্শিদাবাদ সফরে শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশ থেকে অশান্তি, সরকারি প্রকল্পের ভুয়ো প্রাপক থেকে সরকারি আধিকারিক, নরমে-গরমে মন্তব্য এবং সাবধানবাণী মুখ্যমন্ত্রীর। আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হিংসা অতীত, আইনের শাসনই শেষ কথা— মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মুর্শিদাবাদে প্রথম সফরে গিয়ে বার বার এই বার্তাই দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম-না করে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ‘সাবধান’ করলেন। আবার নানা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সরকারি আধিকারিক এবং কর্মিদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।আনন্দবাজার ডট কম একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, আগামী সোমবার থেকে রাজ্যে চালু হয়ে যাচ্ছে গুন্ডাদমন আইন। তার কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।’’ শুক্রবার বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকের আগে রেজিনগরের তাকিপুর হাই মাদ্রাসা স্কুল মাঠে জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশাসনিক সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সরকারের কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় যাওয়ার আগে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।’’ শুভেন্দুর এই মন্তব্য যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বহু ভুয়ো প্রাপক ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, অন্তত ৩৪টি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ওই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘তদন্ত চলছে। যদি বিডিও এই কাজ করে থাকেন, বিডিও-কে জেলে যেতে হবে। বিএমওএইচ করলে তার চাকরি যাবে। আমরা আরজি কর কেসে তিন জন সিনিয়র আইপিএস-কে যদি সাসপেন্ড করতে পারি, তার উপরে তো কেউ নয়! তাই ভরসা রাখতে পারেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দেয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখলাম, অন্তত ৬০০টি ভুয়ো! এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অধিকাংশই জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ বার আমরা ভাল করে নথি পরীক্ষা করছি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক, কেওয়াইসি আছে কি না, এ সব দেখতে গিয়ে ভুয়ো উপভোক্তারা ধরা পড়ছেন। দুটো মাস সময় দিন, ভেরিফিকেশনের কাজ হবে। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।” প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ-মালদহ দুই জেলার ভাঙন রোধে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। দুই জেলার ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থার উপরে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জোর দেন বৈঠকে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভাষণবাজি’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হুমায়ুন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ভাষণবাজির কী আছে? গণতন্ত্রে কি কথা বলার অধিকার নাই? উনি তো নিজে বিরোধী দলনেতা ছিলেন। তখন তো উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ করতেন। বলতেন, বিরোধী দলনেতাকে কোনও মিটিং-মিছিল করতে হাই কোর্টে যেতে হয়। আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বলে তিনি সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে?’’ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতার সংযোজন, ‘‘বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবেন উনি? উনি তো মুর্শিদাবাদে পুরো পুলিশ-প্রশাসনের কাছে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। পুলিশ অন্যায় করলে জানানোর পরেও দেখব, কতটুকু সুবিচার তিনি দিতে পারেন।’’ প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়ক বা সাংসদদের কাউকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ শুধু আমার মন্ত্রী গৌরী ঘোষ (গৌরীশঙ্কর) ছিলেন। জেলা বিধায়ক, জেলা প্রেসিডেন্ট ছিল আমার সঙ্গে রেজিনগর যাবে বলে। এরা কেউ ভাষণ দেননি। সকলে বসে ছিলেন। যে দিন ডাকব, ২২ জন বিধায়ককেই বলব, চার জন সাংসদকেই ডাকব।’’ Post Views: 39 Post navigation পালাবদলের পরেই যাদবপুরের লালদুর্গে নজর সঙ্ঘ-বিজেপির! প্রভাব বাড়ছে গেরুয়ার, সংঘাত এড়িয়ে জল মাপছে দুই পক্ষই