স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন পেনাল্টি শুটআউটের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হুলিয়ান আলভারেজ। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শককে উল্লাসে ভাসিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ডান পায়ের এক জাদুকরী শটে সুইসদের জাল কাঁপান তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে (স্টপেজ টাইম) থিয়াগো আলমাদার করা এক প্রাণঘাতী কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের (নির্ধারিত সময়ে ১-১ থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে ২-১ এবং পরবর্তীতে ৩-১) জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেস।পুরো ম্যাচ জুড়ে রক্ষণভাগ জমাট রেখে পেনাল্টির অপেক্ষায় থাকা সুইজারল্যান্ডের প্রাচীর ভাঙতে পারছিল না আলবিসেলেস্তেরা। সুইসরা এক জন কম (লাল কার্ডের কারণে) নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনার জন্য পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। এমন সময় কোচ লিওনেল স্কালোনির একটি পরিবর্তন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।বদলি হিসেবে নামা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ ডান প্রান্ত থেকে বল বাড়িয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশ্যে। চলতি টুর্নামেন্টে এর আগে জালের দেখা না পাওয়া ‘দ্য স্পাইডার’ এবার আর ভুল করেননি; সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করে বাঁ-দিকের টপ কর্নার দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নিজের এই চোখধাঁধানো গোল নিয়ে আলভারেজ বলেন, ‘এর আগেও আমি একটা শট নিয়েছিলাম। তবে এবার সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলাম, কেউ আমাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেনি এবং শটটি দারুণভাবে কানেক্ট হয়েছিল। সত্যিই একটি চমৎকার গোল।’ বিশ্বকাপের লড়াই নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানতাম সবাই মিলে আক্রমণ চালিয়ে গেলে গোল আসবেই। অবশ্যই আমরা কাজটা আগেই শেষ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো এমনই কঠিন হয়। আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। আমরা দুটিই জিততে চাই।’ আলভারেজের গোলের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুরো সুইজারল্যান্ড দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো ৪ মিনিট স্টপেজ টাইম দিলে সুইসরা অল-আউট আক্রমণে যায়, যার ফলে তাদের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগেই কাউন্টার অ্যাটাকে বল নিয়ে ছোটেন থিয়াগো আলমাদা। গোলরক্ষক কোবেলের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায় আলমাদা শট মিস করলেও, পেছন থেকে ছুটে এসে আলতো টোকায় বল পোস্টে লাগিয়ে জাল খুঁজে নেন লাউতারো মার্তিনেস। আর তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল। ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক লাউতারো মার্তিনেস বলেন, ‘আরও একবার আমাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভুগতে হলো। ম্যাচটি দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ওরা ৫ জনের ডিফেন্স লাইনে চলে গেলেও আমাদের দল ধৈর্য হারায়নি। ভাগ্য ভালো যে আমরা গোলগুলো পেয়েছি এবং সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছি।’ দলের বর্তমান ফর্ম নিয়ে লাউতারো স্পষ্ট করেই বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চাই, হয়তো ঠিক সেভাবে পারছি না। তবে ম্যাচের কিছু কিছু অংশে আমরা দারুণ খেলছি, যদিও সেই ছন্দটা পুরো ম্যাচ জুড়ে ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রতিপক্ষও আমাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। গত আট বছর ধরে আমরা যেভাবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে আসছি, এবারও তা-ই করব। আর্জেন্টিনাকে সর্বোচ্চ আসনে রেখে আসার লড়াই করব আমরা।’ আগামী ১৫ জুলাই, বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারেও এক নতুন অধ্যায়, কারণ দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে কখনোই খেলা হয়নি এই আর্জেন্টাইন তারকার। Post Views: 2 Post navigation ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের ভাগ্য আজ পাশে ছিল -স্কালোনি