দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে করতে কোমর-পিঠ ধরে যায়। কখনও তা স্থায়ী ব্যথাতেও পরিণত হয়। কাজের ধরন বদলানো যাবে না। তবে বসার ভঙ্গি ঠিক রাখতে, কোমর-পিঠের ব্যথা কমাতে হাতের কাছে রাখুন কয়েকটি জিনিস। নিউটার্ন ডেস্ক : কায়িক পরিশ্রম নেই। তবু কোমর-পিঠে ব্যথা। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা চোট ছাড়াই এমন একাধিক সমস্যায় কাবু নতুন প্রজন্ম। চিকিৎসকরা এই জন্য দায়ী করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় বসে কাজের অভ্যাসকেই। আনন্দবাজার ডট কম×কর্পোরেট সেক্টর থেকে আইটি— নানা ধরনের পেশাতেই টানা বসে কাজ করতে হয়। কাজের সময় কখনও কখনও ৯-১০ ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, বসার ভঙ্গির ভুলে এবং টানা বসে থাকার ফলেই কোমর, পিঠ এবং ঘাড়ের যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে কম বয়স থেকেই। নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগের চিকিৎসক অঙ্কিত অগ্রবাল বলছেন, ‘‘অনেক সময়েই কাঁধ, হাতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি দিয়ে শুরুটা হয়। বিষয়টি অবহেলা করে লম্বা সময় চেয়ারে বসে কাজ, সঠিক ভঙ্গিতে না বসার ফলে, পরিস্থিতি খারাপের দিকে এগোতে থাকে।’’ মেরুদণ্ড সোজা নয়, তাতে একটি নিজস্ব বাঁক থাকে। এক টানা বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ড সংলগ্ন পেশিতে চাপ পড়ে, সেগুলি শক্ত হতে থাকে। ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া, বসার ভঙ্গিটিও সকলের ঠিক থাকে না। ফলে পেশিতে রক্তসঞ্চালন কমে যায়। একেবারেই ওঠাহাঁটা না করে লম্বা সময় বসে থাকলে নিতম্বেও অসাড়তা অনুভব হয়। কেন হচ্ছে সমস্যা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ আধশোয়া বা গা এলিয়ে বসে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে মোবাইল দেখা ওঠা বা হাঁটা কম হওয়া শারীরচর্চার অভাব কিছু উপকরণ রয়েছে যা বসার ভঙ্গিটি যেমন ঠিক করতে পারে, তেমনই কোমর-পিঠের যন্ত্রণা এড়াতেও কাজে আসতে পারে। এ রকমই কিছু উপকরণ রাখতে পারেন হাতের কাছে। বসার ভঙ্গি শোধরানোর বেল্ট: ‘পশ্চার কারেক্টর ব্রেস’ বা বিশেষ ধরনের এই বেল্টটি মেরুদণ্ড এবং কাঁধ সোজা রাখতে, কুঁজো হয়ে বসার অভ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। বসার ভঙ্গিটি ঠিক থাকলেই ঘাড়-পিঠের ব্যথা এড়ানো সম্ভব হয়। আর্গোনোমিক চেয়ার: এই ধরনের চেয়ার লম্বা সময় ধরে অফিসের কাজের জন্য বিশেষ ভাবে নকশা করা। এর কাজ হল মেরুদণ্ডের অবস্থান ঠিক রাখতে সাহায্য করা। এতে মাথা এবং হাত রাখার জায়গা থাকে। ফলে মাথা রাখা এবং হাতের বিশ্রামে সুবিধা হয়। এই ধরনের চেয়ার ঊরুর নিচে অতিরিক্ত চাপ ফেলে না। ফলে, পায়ের নিচে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। দীর্ঘ ক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকার ফলে, পা ফোলার যে সমস্যা, তা এড়ানো যায়। স্ট্যান্ডিং ডেস্ক: এই ধরনের ডেস্কের উচ্চতা ইচ্ছামতো নির্দিষ্ট করা যায়। ফলে এই ধরনের ডেস্কে যেমন চেয়ার নিয়ে বসে কাজ করা যায়, তেমন দাঁড়িয়েও কাজ করা যায়। অনেকটা সময় বসে কাজ করার ফলে মেরুদণ্ডে যে চাপ পড়ে, তা কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে কাজ করলে কমে। বসে না থেকে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে। ফোম রোলার: ফোম দিয়ে তৈরি মোটা নলের মতো ফিটনেস এবং স্ট্রেচিংয়ের সরঞ্জাম হল ফোম রোলার। কোমরের নীচে রোলার রেখে, চিত হয়ে শুয়ে শরীর আগু-পিছু করে সহজেই ব্যায়াম করা যায়। রোলার যখন ঘোরে, কোমরের পেশিতে আরাম লাগে। অনেক ক্ষণ কাজের ফলে কোমর-পিঠে যে ব্যথা হয়, তা-ও কমে যায় ফোম রোলার দিয়ে শারীরচর্চা। এটি ব্যবহার করাও সহজ। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। শোয়ার ভঙ্গি শোধনকারী বালিশ: শুধু বসে থাকার জন্য নয়, ভুল ভাবে শোয়ার জন্যও কোমর, পিঠ, কাঁধেও ব্যথা হতে পারে। এটি বিশেষ আকৃতির বালিশ যা ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে রাখতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। Post Views: 29 Post navigation মুখের ক্যানসার ধরা পড়বে ১ ঘণ্টায়! বায়োপসির বিকল্প হিসেবে বিজ্ঞানীরা তৈরি করলেন বিশেষ ‘ব্রাশ’