নিউইয়র্ক, ১৫ জুলাই ২০২৬: বৈশ্বিক সংঘাত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা, পণ্য
সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমাত্রিক চাপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা
ও ক্ষমতায়নে জাতিসংঘ নারী সংস্থা (ইউএন উইমেন)-এর আরও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ
ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডার
সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বর্তমানে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা
দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে
প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং প্রত্যাবাসনের পর বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা যেন নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস
করতে পারে, জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায় এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে ইউএন উইমেনের আরও
সক্রিয়, কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
উপদেষ্টা বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে,
যার ফলে সরকারের ফিস্কাল স্পেস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর শর্ত ও
নীতিমালার কারণে অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হয়ে পড়ছে এবং অনেক স্বল্পোন্নত দেশ ঋণচাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদারে
ইউএন উইমেনের কার্যকর ও সম্প্রসারিত সহযোগিতার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন,
পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার
সম্প্রসারণ এবং সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক
অংশগ্রহণকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডা নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন
এবং ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগকে একটি উদ্ভাবনী ও নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করেন। কক্সবাজার
সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনিবাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, লিঙ্গসমতা,
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএন ারীমিশন উইমেনের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ।

  • প্রেস বিজ্ঞপ্তি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *