এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির :দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির এমএলএসএস (দপ্তরি/পিয়ন) পদধারীদের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদবি “অফিস সহায়ক” হিসেবে সমন্বয় না করায় চরম অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই জটিলতার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এবার আইনগত অধিকার আদায়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। এমপিওভুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯৫ এবং ২০১০ -২০১৩ সালের এমপিও নীতিমালার আওতায় বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এমএলএসএস (দপ্তরি) কর্মচারীরা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষ খোলা-বন্ধ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করাসহ প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তারা কাজ করছেন। “২০২১ সালের এমপিও নীতিমালায় ‘এমএলএসএস (দপ্তরি)’ পদের পরিবর্তে ‘অফিস সহায়ক’ পদ চালু করা হলেও, পূর্বে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হাজারো অভিজ্ঞ কর্মচারীকে এই পদে সমন্বয় করা হয়নি। উল্টো তাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মি, নিরাপত্তা কর্মি বা নৈশপ্রহরী পদে পদায়ন করে, শূন্য হওয়া ‘অফিস সহায়ক’ পদে নতুন করে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।”— এমপিওভুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- যে পূর্বের নিয়োগ কৃত সকল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এমএলএসূ (দপ্তরীদের) সঙ্গে মানবিক নির্যাতন অন্যায় করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা এটা সংগঠন মেনে নিবে না।পূর্বের এমপিও নীতিমালা ১৯৯৫ এবং ২০১০-২০১৩ সংশোধনীয় এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত সকল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এমএলএসএস দপ্তরী /পিয়নদের নিয়োগ বৈধতা ছিল । চাকরির জীবনে ২০-২৫ বছর যাবত চাকরির জীবনে এসে এত বড় অন্যায় মেনে নেয়া হবে না । সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, একটি পদের বিপরীতে সমমর্যাদার পদে সমন্বয় না করে কর্মচারীদের বিভিন্ন নিম্নতর পদে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে করে কর্মরত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদা ও আত্মসম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।কর্মচারী পরিষদের মূল দাবিসমূহ:অবিলম্বে সমন্বয়: ১৯৯৫, ২০১০ – ২০১৩ সালের নীতিমালার আওতায় বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল এমএলএসএস (দপ্তরি) কর্মচারীকে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে “অফিস সহায়ক” পদে সমন্বয় করতে হবে। নতুন নিয়োগ স্থগিত:অভিজ্ঞ পুরোনো কর্মচারীদের বঞ্চিত করে শূন্য পদে নতুন করে “অফিস সহায়ক” নিয়োগের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনিক দ্রুত পদক্ষেপ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই ন্যায্য দাবিতে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছেন কর্মচারীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা আইনগত প্রতিকার পেতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। Post Views: 68 Post navigation আটপাড়ায় কাল্ব এর ১৭ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্ক কর্মশালা এন জি ও ফোরাম অনুষ্ঠিত