মাথার চামড়ায় ভাঁজের পর ভাঁজ। ভিতরে গুটিয়ে যাচ্ছে মগজ। বিরল রোগে আক্রান্ত চিনের যুবক। রোগটি কী? কেনই বা হয়? নিউটার্ন ডেস্ক : মাথার তালু তো নয়, যেন ভিতরের মগজ বেরিয়ে এসেছে বাইরে। এক ঝলক দেখলে তেমনই মনে হবে। মাথার চামড়ায় একের পর এক অসমান ভাঁজ পড়তে থাকে। যেন পরতে পরতে গুটিয়ে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে চামড়া। সেই ভাঁজগুলি ক্রমেই শক্ত হতে থাকে। গোটা মাথা জুড়ে তা ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে। এমন রোগ বিশ্বে হাতেগোনা কয়েক জনেরই হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘কাটিস ভার্টিসিস জায়রাটা’। চিনের হুনান প্রদেশের ২৩ বছরের এক যুবক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। উহান ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা চলছে যুবকের।আনন্দবাজার ডট কম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে খবরটি জানা গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, লি নামের ওই যুবকের রোগটি দেখা দেয় কৈশোরে। প্রথম লক্ষ করেন যে তাঁর মাথার ত্বকের কিছু অংশ অস্বাভাবিক ভাবে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অবস্থা আরও মারাত্মক রূপ নেয়। মাথার চামড়া ধীরে ধীরে অত্যন্ত ঘন ও খসখসে হয়ে ওঠে এবং তাতে বড় বড় অসমান ভাঁজ তৈরি হয়। বয়স যখন ১৪, তখন মাথার প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে এমন শক্ত ও অসমান ভাঁজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। দেখতে হয়েছিল ভয়াবহ। চিকিৎসকেরা বলছেন, কাটিস ভার্টিসিস জায়রাটা রোগে গোটা মাথার চামড়াই গুটিয়ে শক্ত হয়ে যায়। দেখলে মনে হয়, মাথার চামড়ার উপর আরও একটা মগজ তৈরি হয়েছে। তাই রোগটির আরও এক নাম ‘ব্রেন-লাইক স্ক্যাল্প ডিজ়িজ়’। কেন হয় এমন রোগ? চিনের উহান ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও জন্স হপকিন্স মেডিসিনের গবেষকেরা কাটিস ভার্টিসিস জায়রাটা রোগটি নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষকরা জনিয়েছেন, বিশ্বে প্রতি এক লক্ষ জনের মধ্যে ০.০২ শতাংশ জনের এই রোগ হতে দেখা গেছে। মাথার ত্বকের নিচের কোষের অনিয়মিত বিভাজন হতে থাকে ও কোষ অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে তার বাইরের আবরণ পুরু হয়ে যায়। ফলে মাথার ত্বক ফুলে ওঠে ও সেখানে ভাঁজ পড়তে থাকে। মাথার ত্বক যত বেশি পুরু হয়, ততই ভাঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, কাটিস ভার্টিসিস জায়রাটা রোগটি তিন প্রকার। একটি হল প্রাইমারি এসেনশিয়াল, যা কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের তারতম্যের কারণে হতে পারে। হরমোনের অত্যধিক ক্ষরণে ত্বকের এমন অসমান বৃদ্ধি হতে শুরু করে অনেকের। দ্বিতীয়টি প্রাইমারি নন-এসেনশিয়াল, যা জিনগত ত্রুটির কারণে হয়। নির্দিষ্ট কিছু জিনে মিউটেশন বা রাসায়নিক বদল হলে এমন রোগ হতে দেখা যায়। বিশেষ করে অটিজ়ম, স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ার রোগী বা মৃগী রোগে আক্রান্তদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তৃতীয়টি হল সেকেন্ডারি কাটিস ভার্টিসিস জায়রাটা, যার কারণ শরীরে শর্করা ও কোলাজেনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। পিট্যুইটারি গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোনগুলির ক্ষরণ বেড়ে গেলে এবং সঙ্গে রক্তে শর্করা ও কোলাজেনের পরিমাণ বাড়লে, কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হয়। ফলে চামড়া গুটিয়ে যেতে থাকে। এই রোগ পুরুষদেরই বেশি হয়। এর কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ওষুধ নেই। রোগীর লক্ষণ দেখে চিকিৎসা করা হয়। মাথার চামড়া স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্লাস্টিক সার্জারি করা ছাড়া গতি থাকে না। Post Views: 49 Post navigation টানা ৬ বছরের পারফরম্যান্স নিশ্চয়তা মিলবে এই স্মার্টফোনে ৭,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি নিয়ে আসছে রেডমি ১৭