আসাদ হোসেন রিফাতঃ

বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ, বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় বেড়েছে
দুর্ঘটনার ঝুঁকি । প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মহাসড়কটি যেন এক মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে,বুড়িমারী -লালমনিরহাট এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছেন, প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল সহ হাজারো যানবাহন। বিশেষ করে হাতীবান্ধা সাব রেজিস্ট্রার অফিস এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় প্রতিদিন প্রায় সময় ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত এখন বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। মহাসড়কের একাধিক স্থানে বড় ধরনের খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং সময় নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি।
ট্রাকচালক মিটু ও মানু মিয়া জানান, বড় বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় বিপরীত লেনে চলে যেতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাতের বেলায় কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তগুলো বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই সড়কে এখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দুর্ঘটনার কথা ভেবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়সূচি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের মতো বেহালদশার সড়ক কোথাও দেখতে পাই না। কোনদিনই এই মহাসড়কের তেমন কোনো উন্নতি দেখি নাই। সড়কের কারণে অনেক ট্রাক বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বেড়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ছে।
মোটরসাইকেল চালক মিলন বলেন, ছোট যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার জন্য এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে আহত হচ্ছেন। মাঝে-মধ্যে ইটের খোয়া বা নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
এবিষয়ে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, “গত অর্থবছরে সড়কটি মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি বরাদ্দের টাকা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার শুরু করা হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *