বিরল প্রজাতির এক ভাইরাস হানা দিয়েছে নিউ ইয়র্কে। সেখানকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, সেটি বুরবন ভাইরাস। এর ওষুধ বা প্রতিষেধক কিছুই নেই। টিক পোকার কামড় থেকেই ছড়াচ্ছে এমন ভাইরাস।

নিউটার্ন ডেস্ক :

পোকার কামড় থেকে ছড়াচ্ছে ভাইরাস? এঁটুলি পোকা কামড়ালেই বিপদ। পোকার লালা থেকে শরীরে ঢুকে পড়ছে এমন এক ভাইরাস যাকে ঠেকানোর কোনও উপায়ই জানা নেই এখনও অবধি। নিউ ইয়র্কে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন। সেখানকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ভাইরাসটি সনাক্ত করা গেছে। সেটি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রায় সমগোত্রীয় একধরনের ভাইরাস যার নাম বুরবন। এই ভাইরাসকে ঠেকানোর না আছে কোনও ওষুধ, না প্রতিষেধক।আনন্দবাজার ডট কম

কী এই বুরবন ভাইরাস?

২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের বুরবন কাউন্টিতে প্রথম এই ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি ‘থোগোটোভাইরাস’ গোত্রের এক বিরল প্রজাতির ভাইরাস যা টিক পোকার কামড় থেকে ছড়ায়। এদের সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভাইরাসের বিস্তর মিল আছে, তবে এরা বাতাসে ভেসে ছড়ায় না। ছোঁয়াচে নয়। কেবল পোকার লালা থেকেই ছড়ায় এমন ভাইরাস।

বুরবন ভাইরাস শরীরে ঢুকলে যে রোগ হচ্ছে তার সঙ্গে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মিল রয়েছে। টিক পোকা কামড়ালে সেই জায়গাটি ফুলে উঠে লাল হয়ে যাচ্ছে, তার পর জ্বর আসছে। সঙ্গে মাথাব্যথা, প্রবল গা-হাত পায়ে ব্যথা, পেশির খিঁচুনি, বমি ভাব ও প্রচণ্ড ক্লান্তি থাকছে রোগীর। কিছু ক্ষেত্রে পোকার কামড়ানো জায়গায় ক্ষত বা র‌্যাশ হতেও দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় দেখলে পোকার কামড় বলেই মনে হবে, তবে ভাইরাস যত বেশি রক্তে মিশবে ও সংখ্যায় বাড়বে ততই রোগের প্রকোপ বাড়বে। গবেষকরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় পোকায় কাটা জ্বর বলে ভ্রম হলেও, পরে দেখা যাচ্ছে রোগীর তীব্র খিঁচুনি হচ্ছে, হাত-পা অসাড় হয়ে যাচ্ছে, খিদে কমছে এবং শরীরের নানা জায়গায় ক্ষত তৈরি হচ্ছে। রোগ জটিল রূপ নিলে রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হবে রোগীর। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে, দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

চিকিৎসা কী?

এই ভাইরাসকে ঠেকানোর মতো কোনও চিকিৎসা নেই এখনও অবধি। সনাক্ত করার নির্দিষ্ট পরীক্ষা ব্যবস্থাও নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে টিক বাহিত রোগেরই চিকিৎসা করেন। পরে রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে, বুরবন ভাইরাস অনুমান করে চিকিৎসা করা হয়। তবে রোগীর লক্ষণ বুঝে সেই মতো চিকিৎসা হয়। কারণ বুরবন ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার মতো কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই, এর জন্য অনুমোদিত কোনও টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থাও নেই। তাই পোকার কামড় থেকে সাবধানে থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *