সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘ অনশন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময়ে তার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তখন বার বার প্রশ্নের মুখে পড়ে বলিউডের ভূমিকা। এ বার বলিউডকে নিয়ে মুখ খুললেন গীতাঞ্জলি।

বিনোদন ডেস্ক :

ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দি ওডিসি’ দেখে বলিউডকে পরোক্ষে কটাক্ষ করলেন সমাজকর্মি সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। তার মতে, ভারতের কাছে অসংখ্য মহাকাব্যের ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও সেগুলিকে যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে ও বুদ্ধির গভীরতা দিয়ে বড়পর্দায় তুলে ধরতে পারছে না বলিউড।আনন্দবাজার ডট কম

নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে গীতাঞ্জলি লেখেন, “গতকাল ‘দি ওডিসি’ দেখলাম। ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টোফার নোলানের সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাতের সময়ে যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলিই বড়পর্দায় দেখতে পাওয়া এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। ছবির বিষয়বস্তু ভারতীয় ভাবনার সঙ্গে ভীষণ পরিচিত— এক নায়কের যাত্রা, ধর্ম, নিয়তি, নির্বাসন, প্রলোভন, ঘরে ফেরা এবং পথ চলতে চলতে একজন মানুষের বদলে যাওয়ার গল্প।”

এর পরেই ভারতীয় সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, “ভারতে এমন সব মহাকাব্যের ভাণ্ডার রয়েছে। কল্পনা করুন, সেগুলিকে যদি বিশাল পরিসর, সংবেদনশীলতা এবং বৌদ্ধিক গভীরতা নিয়ে বড়পর্দায় তুলে ধরা যায়! সিনেমা শুধুই বিনোদন নয়, এটি মানুষের চিন্তাভাবনাও গড়ে তোলে। হয়তো বলিউডের আবার স্মরণ করা প্রয়োজন যে, এটি আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষার মাধ্যমগুলির অন্যতম।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘ অনশন করেছিলেন সোনম। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও তুলেছিলেন তিনি। সেই সময়ে তাঁর পাশে তার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি। এই প্রতিবাদের সময়ে প্রশ্ন ওঠে বলিউডের একাধিক তারকার ভূমিকা নিয়েও। তার কিছু দিন পরেই বলিউড নিয়ে গীতাঞ্জলির মন্তব্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে আমির খানের চরিত্রটি সোনমকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছিল বলেই দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল দর্শকের। যদিও আন্দোলনের সময়ে ওয়াংচুকের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াননি আমির। অন্যদিকে, ওই ছবিতে ‘চতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য প্রকাশ্যে ওয়াংচুককে সমর্থন করেন। পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে আমির দাবি করেন, ওই ছবির শুটিংয়ের সময় তিনি সোনম সম্পর্কে জানতেন না। ফলে তার চরিত্রের সঙ্গে সোনমের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই ঘোষণা করেন আমির। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নড্ডা-সহ একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ২৬ দিনের মাথায় অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম। এর পরে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *