নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।

নিউটার্ন ডেস্ক :

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবে হৃদ্‌রোগী এখন ঘরে ঘরে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল— এ সব যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী। তবে এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ তো আছেই। কিন্তু এক বার ওষুধ খাওয়া শুরু করলে তা বন্ধ করা মুশকিল। তাই প্রথম থেকেই ওষুধ-নির্ভর জীবন বেছে না নিয়ে, ডায়েটে কিছু পরিবর্তন আনলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এর পাশাপাশি চাই সচেতনতাও। নিয়মিত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি শুধু কোলেস্টেরল টেস্টেই ধরা পড়ে? অনেকেরই ধারণা, লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে হার্টের অসুখের ভয় নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে তা অতটা সরল নয়।আনন্দবাজার ডট কম

এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হার্টের রোগের ঝুঁকি আগেভাগে ধরতে গুরুত্ব বাড়ছে এপিওবি বা অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষার।

সাধারণ লিপিড প্রোফাইল টেস্টে রক্তে মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা যায়। কিন্তু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি পরীক্ষা করে রক্তে কতগুলি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল-বহনকারী কণা রয়েছে। এই কণাগুলিই ধীরে ধীরে রক্তনালির গায়ে জমে ব্লক তৈরি করে। ফলে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি-এর মাত্রা বেশি থাকতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তুলনামূলক ভাবে খরচ বেশি না হলেও এই পরীক্ষা ঝুঁকি নির্ধারণে অনেক বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শুধু অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি রিপোর্টই শেষ কথা নয়। হার্টের সামগ্রিক ঝুঁকি বুঝতে রোগীর বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, জীবনযাত্রা, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল সব কিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে, ডায়াবিটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে, অথবা হৃদ্‌যন্ত্রজনিত কোনও সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি টেস্ট করানো যেতে পারে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, হার্ট অ্যাটাক আচমকা হলেও তার ঝুঁকি তৈরি হয় অনেক আগে থেকেই। সময়মতো সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *