ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী পায়েলের স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়ার। অশোকনগর বাণীপীঠ উচ্চবালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর একাদশ শ্রেণিতে ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একটিই বাক্য— “আমি বাঁচতে চাই, আমি সাংবাদিক হতে চাই।” মোবাইলের স্ক্রিনে টাইপ করা এই কয়েকটি শব্দই তুলে ধরছে ১৯ বছরের পায়েল হালদারের অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প। বিরল ক্যানসার র্যাবডোমায়োসারকোমায় আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পায়েল এখন মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। সমাজমাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার কথা নিজেই পোস্ট করে জানিয়েছেন পায়েল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী পায়েলের স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়ার। অশোকনগর বাণীপীঠ উচ্চবালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর একাদশ শ্রেণিতে ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার পর ২০২৩ সালে ধরা পড়ে বিরল এই ক্যানসার। এর পর টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে দীর্ঘ চিকিৎসায় প্রায় দেড় বছরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় উচ্চমাধ্যমিক পাস করে নেতাজি শতবার্ষিকী কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন পায়েল। সাইকেল চালিয়ে একাই কলেজে যেতেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস আগে ফের মারণ রোগটি নতুন করে আঘাত হানে। পরিবার সূত্রে খবর, বর্তমানে তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গেছে। একটি চোখ প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। অন্য চোখেও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হচ্ছে। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। অক্সিজেনের সাহায্য নিতে হচ্ছে পায়েলকে। এখন আর বিছানায় শুয়ে থাকতে পারেন না পায়েল। ঘরের এক কোণে সোফা ও খাটে হেলান দিয়ে দিন কাটে তার। তরল খাবারই তার একমাত্র ভরসা। রাতে ঘুমও হয় না ঠিকমতো। বাবা পরেশচন্দ্র হালদার সারাক্ষণ মেয়ের সেবায় ব্যস্ত থাকায়, তার ছোট ব্যবসায়ও নিয়মিত যেতে পারছেন না। মা মিতালি হালদারও দিনরাত মেয়ের পাশে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, পায়েলের চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকার একটি বিশেষ ইঞ্জেকশন প্রয়োজন। তবে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার পরও সম্পূর্ণ সুস্থতার নিশ্চয়তা নেই। পরিবারের পক্ষে এই বিপুল খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাবা-মায়ের এমন পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে নিজের এই অবস্থার কথা পোস্ট করে জানান পায়েল। কথা বলতে অসুবিধা হওয়ায় পায়েল এখন মোবাইলে টাইপ করেই নিজের মনের কথা জানান। তার একটাই আকুতি, “আমি বাঁচতে চাই, আমি সাংবাদিক হতে চাই।” Post Views: 19 Post navigation ‘ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী’! মোদীর ভিডিয়ো সাময়িক ভাবে সরানোয় ভুলস্বীকার মেটার, সমাজমাধ্যমে শিশু নিরাপত্তার বিষয়েও জোর