ঢাকা :
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও একটি সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
আজ রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘Think Halal Grow Global’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল খাদ্য, হালাল সংস্কৃতি এবং হালাল মূল্যবোধ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই শক্তি হয়ে উঠবে না; এটি মানবসভ্যতার জন্যও শক্তি হয়ে উঠবে। হালাল খাদ্যের বড় বৈশ্বিক বাজার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সাথেও সম্পর্কিত।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে নিজেদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ও হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হালাল পণ্যের সম্ভাবনার কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক বাজারে হালাল পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। মানুষ আরো মানসম্পন্ন হালাল পণ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সাথে বিনিয়োগকারীরাও এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ খুঁজছেন। তাই হালাল শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও একটি ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বড় বাজারে রূপ নেবে এবং ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য চমৎকার আয়োজন করেছে, তা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জনগণের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েও এ সম্পর্ক আরো গভীর হতে পারে। হালাল শিল্প সেই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার Mohd Shuhada Othaman ও বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সভাপতি আনোয়ার শাহিদসহ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *