হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আক্রোশ, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভির হিলি প্রতিনিধি মো. তাহাকিক হাসান। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাংবাদিককে ৪৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।বুধবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার মা মোছা: মমতাজ বেগম, মোজাম্মেল হোসেন মুকুল, ইউসুফ আলী, মুন্নী আকতার উপস্থিত ছিলেন।লিখিত বক্তব্যে তাহাকিক হাসান বলেন, গত ২০ জুন নাগরিক টিভির অনলাইনে ‘হিলিতে ওসির নির্দেশে হাসপাতালে সরকারি গাছ কর্তন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওসি তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে সরকারি গাছ কর্তন ও সার্বিক বিষয়ে দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপারকে তথ্য দেয়া, ৫ হাজার পিস অ্যাম্পুল উদ্ধার করে ২ হাজার পিস দেখানো এবং দুইজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় গ্রেফতার দেখানোর তথ্য সংগ্রহ করায় তার প্রতি ওসির আক্রোশ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে থানার প্রেস ব্রিফিংয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও কয়েকজন সাংবাদিককে সরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।তাহাকিকের অভিযোগ, তার বড় ভাইয়ের অফিসে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কর্মচারী জীবনানন্দ সরকারের বিরুদ্ধে গত ১ জুলাই থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি মামলা নেয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জীবনানন্দ সরকারের পিতা মনিন্দ্র সরকারের দায়ের করা পাল্টা মামলায় তাকে, তার ভাই, ৬৩ বছর বয়সী বাবা ও পরিবারের আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় ২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তর করে পুলিশ, গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ৪৭ দিন কারাগারে ছিলেন।এ ছাড়া ১ জুলাই রাতে সার্চ ওয়ারেন্ট বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই তার মায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ প্রবেশ করে ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও ওসি মোঃ জাকির হোসেন ২০২৩ সালে রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে ৫০ হাজার টাকার ঘুষের বান্ডিল নেয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করছেন। হিলি থানায় বসে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করছেন। তাহাকিক হাসান এসব অভিযোগের তদন্ত, তার পরিবারের সদস্যদের মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, একজনকে তালাবদ্ধ করে রাখা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মামলায় গত ২ জুলাই তাহাকিক হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত ও অপহৃত ব্যক্তির জবানবন্দির ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে করা অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। Post Views: 4 Post navigation বিজিবি কর্তৃক বেসিক ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত