উলানবাটর (মঙ্গোলিয়া), ১৪ ভাদ্র (২৯ আগস্ট):
মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (UNCCD COP17)-এর সাইডলাইনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
কপ-১৭ সম্মেলন চলাকালীন সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি ক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা জরুরি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও বাংলাদেশ শিখতে আগ্রহী।
ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী Bhupender Yadav এর সঙ্গে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিও আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠকে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয় আলোচনা হয়।
মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Battsetseg Batmunkh এর সাথে অনুষ্ঠিত গত মঙ্গলবারের বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর করা, উভয় দেশে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় আলোচিত হয়।
মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, সেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) Ugochi Daniels এর সাথে বৈঠকে (২৬ আগস্ট) জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের আন্তঃসম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। জলবায়ুজনিত মানব চলাচলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী Sandag-Ochir Tsend এর সাথে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও খরা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কপ-১৭-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সাথে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরো জোরদার হবে এবং পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব নতুন মাত্রা পাবে।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *