সংঘর্ষের দুই দিন পর আগুন, পুড়ে ছাই দুইটি ঘর—ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকা দাবি
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মামলা ও সংঘর্ষের জেরে এবার গভীর রাতে ছাত্রদল নেতার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের মাত্র দুই দিন পর শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার উত্তর সুতালড়ী গ্রামের রাকিব হাওলাদারের বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। খবর পেয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী রাকিব হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, প্রায় ১৬ একর জমির একটি মৎস্য ঘেরের দখল নিয়ে গত এক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার মারপিট, হামলা-পাল্টা হামলা এবং মামলা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনাও বিরাজ করছে।
রাকিব হাওলাদারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে ওই ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনার দুই দিন পর শনিবার গভীর রাতে তার বড় ভাই শামীম হাওলাদারের বসতঘরসহ তাদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বসতবাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
‘পুরুষ মানুষ ছিল না, হঠাৎ দেখি ঘরে আগুন’
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে শামীম হাওলাদারের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, ঘের নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলার কারণে ঘটনার রাতে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ ছিলেন না। তিনি দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। এ সময় তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে দুটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
শিল্পী আক্তারের ভাষ্য, আগুনের ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে সঙ্গে থাকা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। আগুনের কারণে ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের বিরোধে বাড়ছে উত্তেজনা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্য ঘেরের দখল ও মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
এর মাত্র দুই দিন পর একটি পক্ষের বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে বিরোধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা জোছনা বেগম, সোহাগ হাওলাদার, হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে ঘটনাটির সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, ঘের নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে; কিন্তু তার জেরে কারও বসতবাড়িতে আগুন দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
পুলিশের বক্তব্য
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দিন আগে ঘের দখল সংক্রান্ত মারপিটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাকিব হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সেই বিরোধের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, রাকিব হাওলাদারের ঘরটি শত্রুতার কারণে কেউ পুড়িয়ে দিয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের ঘের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
সংঘর্ষের দুই দিন পর আগুন, পুড়ে ছাই দুইটি ঘর—ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকা দাবি
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মামলা ও সংঘর্ষের জেরে এবার গভীর রাতে ছাত্রদল নেতার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের মাত্র দুই দিন পর শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার উত্তর সুতালড়ী গ্রামের রাকিব হাওলাদারের বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। খবর পেয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী রাকিব হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, প্রায় ১৬ একর জমির একটি মৎস্য ঘেরের দখল নিয়ে গত এক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার মারপিট, হামলা-পাল্টা হামলা এবং মামলা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনাও বিরাজ করছে।
রাকিব হাওলাদারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে ওই ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনার দুই দিন পর শনিবার গভীর রাতে তার বড় ভাই শামীম হাওলাদারের বসতঘরসহ তাদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বসতবাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
‘পুরুষ মানুষ ছিল না, হঠাৎ দেখি ঘরে আগুন’
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে শামীম হাওলাদারের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, ঘের নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলার কারণে ঘটনার রাতে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ ছিলেন না। তিনি দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। এ সময় তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে দুটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
শিল্পী আক্তারের ভাষ্য, আগুনের ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে সঙ্গে থাকা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। আগুনের কারণে ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের বিরোধে বাড়ছে উত্তেজনা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্য ঘেরের দখল ও মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
এর মাত্র দুই দিন পর একটি পক্ষের বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে বিরোধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা জোছনা বেগম, সোহাগ হাওলাদার, হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে ঘটনাটির সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, ঘের নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে; কিন্তু তার জেরে কারও বসতবাড়িতে আগুন দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
পুলিশের বক্তব্য
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দিন আগে ঘের দখল সংক্রান্ত মারপিটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাকিব হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সেই বিরোধের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, রাকিব হাওলাদারের ঘরটি শত্রুতার কারণে কেউ পুড়িয়ে দিয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের ঘের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *