‘কিছু না শুনে একতরফা খোলা হয়েছে বিলবোর্ড’! ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল
৯, ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম এবং অষ্টম তলে অভিষেকের দফতর রয়েছে। কিছু দিন আগে সেখান থেকে বিলবোর্ড খুলে আনতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা অভিষেকের অনুগামীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে তৃণমূলের নামাঙ্কিত বিলবোর্ড খুলে দেয়ার ঘটনায় এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট শিবির। এর আগে তারা কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে আদালত রাজি হয়নি। তাই হাই কোর্টের ওই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। আগামী সোমবার শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের মামলার শুনানি হতে পারে।আনন্দবাজার ডট কম

ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় অভিষেকের দফতর রয়েছে। কিছু দিন আগে সেখান থেকে বিলবোর্ড খুলে আনতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা অভিষেক অনুগামীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন। এমনকি, পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিও হয়েছিল। অভিযোগ, ওই বিলবোর্ড বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। তা খুলে দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূলকর্মিরা আবার সেখানে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য ছিল, তাড়াহুড়ো করে বিলবোর্ড খুলে দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য শোনাই হয়নি।

বিলবোর্ড সরানোর সময় উপস্থিত পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশকর্মিদের নাম, পদ, তাদের পরিচয় প্রকাশের জন্য আদালতে আবেদন করেছিল তৃণমূল। হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, বিলবোর্ডটি আবার আগের জায়গায় লাগিয়ে দেয়া হোক। অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের মালিক হাই কোর্টে জানান, বিলবোর্ড ঝোলানো হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়াই।

তৃণমূলের কোনও আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ। বিচারপতি জানান, বিলবোর্ড যেহেতু খোলা হয়ে গেছে, তাই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ এই মুহূর্তে দেয়া যাবে না। বিলবোর্ড আবার লাগিয়ে দিতে বললে তা চূড়ান্ত রায়েরই সমান হবে। তা ছাড়া, পুরসভা ও পুলিশের যে আধিকারিকদের নাম তৃণমূলের তরফে চাওয়া হয়েছে, তার জন্য যথেষ্ট নথিভিত্তিক তথ্য আদালতের সামনে নেই। হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে না-চাওয়ায় এ বার তৃণমূল তাই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে বৃহস্পতিবার ভোরে একদল দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলকর্মিদের মারধরও করা হয়েছে। কালীঘাট শিবিরের অভিযোগের তির এ ক্ষেত্রে বিজেপির দিকে। যদিও শাসকদল তা অস্বীকার করেছে। ওই ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া, শুক্রবার দমকল বিভাগ ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের সপ্তম এবং অষ্টম তল, অর্থাৎ অভিষেকের দফতর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ভবনের মালিককে। অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তাই জনস্বার্থে ভবনের ওই অংশ খালি করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিলবোর্ড খোলার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেল কালীঘাট।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *