আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে এক নারী শিক্ষক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযুক্ত ব্রনওয়েন জেমসের বয়স ৩০ বছর। তিনি যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের চিপেনহ্যাম এলাকার বাসিন্দা এবং সাউদাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে জুরিদের সামনে এই সংক্রান্ত মামলার বিস্তারিত শুনানি হয়। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। খবর বিবিসির।

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড কালভার অভিযোগ করেন, শিক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান ও শিক্ষার্থীর আস্থার অপব্যবহার করে জেমস ওই কিশোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

আদালতকে বলা হয়, জেমস ওই শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত করার পর তাদের মধ্যে ‘ফ্লার্টিং’ ধরনের বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। পরে তিনি শিক্ষার্থীকে সাউদাম্পটনের ওয়েস্টন শোর এলাকায় নিজের গাড়িতে করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তারা চুম্বন করেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

এরপর জেমস ওই শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এমন ঘটনা তিন বা চারবার ঘটেছিল বলে শিক্ষার্থী পুলিশকে জানিয়েছিল।

শুনানিতে আরও বলা হয়, জেমস ওই কিশোরকে বলেছিলেন তিনি তাকে ভালোবাসেন। তার সঙ্গে অন্যত্র চলে যেতে চান। তাদের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান হতো। তারা একসঙ্গে বসবাসের বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আদালতে বলেন, তিনি সবসময় জেমসকে ‘মিস’ বলে ডাকতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করতেন শিক্ষক তাকে গুরুত্ব দিতেন। সে সময় সম্পর্কটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে ঘটনাটি ভুল ছিল।

প্রসিকিউশনের দাবি, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে জেমস তুলনামূলকভাবে ছাড় দিতেন। ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষক তাকে ভ্যাপও দিতেন।

২০২২ সালের জুনে অন্য এক শিক্ষার্থী জেমস ও অভিযোগকারীর মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু বার্তা একজন শিক্ষককে দেখানোর পর বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বার্তাগুলোতে যৌন সম্পর্কের ইঙ্গিত ছিল। আদালতে জেমসের বাড়িতে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর তোলা কিছু ছবিও দেখানো হয়।

তবে জেমস পুলিশকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী কখনও তার বাড়িতে যায়নি। তাদের মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্কও হয়নি। তার আরও দাবি, অন্য এক শিক্ষার্থী ওই কিশোরকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতে প্ররোচিত করেছিল।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জেমস প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে একটি প্রস্তুত করা বিবৃতি দেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে। মামলাটির বিচার এখনও চলমান। আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *