ফেনী :কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের প্রণোদনা পাচ্ছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ জন কৃষক।প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফেনী সফর উপলক্ষ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সম্মানী ভাতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।কৃষি মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে সারা দেশে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ জন কৃষককার্ডভুক্ত কৃষককে ২৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে এবং ফেনী জেলার ৭,৬৪৩ জন কৃষক কার্ড (ছাপানো) পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে কৃষক কার্ড প্রদানের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের দুই কোটিরও বেশি কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, কৃষক কার্ড প্রদানে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, মাঝারি ও বড়-সব শ্রেণির প্রকৃত কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসবেন।তিনি আরো বলেন, কৃষক যেন ন্যায্য মূল্যে সার ও বীজ পান এবং তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য পান সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা আরো সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। এছাড়া, সার নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।সার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের হয়রানি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। সারা বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সার আমদানি করা হয়। মৌসুমভেদে সারের চাহিদা কম-বেশি হয় এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করা হয়। তাই সার নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই।তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে ডিলারের বাইরে অন্যদের কাছে সার মজুত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সারসংক্রান্ত কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসব টিম কাজ করছে।মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে কৃষক, সমাজ ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সার নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অসাধু ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারবেন যে, এ ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই।চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশের চরাঞ্চলের কৃষিকে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন চরকে কীভাবে যুগোপযোগী করা যায় এবং এসব এলাকায় কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, চরাঞ্চলে শীতকালীন স্বল্পমেয়াদি ফসলসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ, উপযোগী ফসল নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চরাঞ্চলের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ফেনীর জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।এরপর মন্ত্রী ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফেনী সফর উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।-ত.বি. Post Views: 30 Post navigation যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে-স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হিসেবেবাংলাদেশকে রূপান্তর করতে এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে– বিমানমন্ত্রী