ঢাকা :

আজ ঢাকার কুর্মিটোলা ইউনাইটেড কনভেনশন হলে বণিক বার্তা কর্তৃক আয়োজিত এভিয়েশন খাতের বিদ্যমান সম্ভাবনা, নীতিগত সংস্কার ও আগামীর করণীয় বিষয়ে পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা। এই অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের বিমানবন্দরগুলো আমাদের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো। তাই এই আয়নাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নে আমরা এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি।

মন্ত্রী আরো্ বলেন, যেহেতু আজকের অনুষ্ঠান পলিসি নিয়ে তাই আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, প্রায় ৪২ বছর পরে আমরা সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস-২০২৬ প্রণয়ন করছি। আমাদের নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।

এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিগণের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানের জটিল যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, একটি ভঙ্গুর এবং বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছি। চারদিকে যাত্রী হয়রানির অভিজ্ঞতা উঠে আসছিল। আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এই হয়রানি লাঘব করা। সেবার মানোন্নয়নে বিমান বাংলাদেশ এয়রালাইন্সের সাথে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের কাজ হাতে নিয়েছি।

দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) unit স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা রাখি।

উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। তবে আমাদের এসকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত অপতথ্য ছড়াচ্ছে। ফলে আমরা একরকম হাইব্রিড ওয়ারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ প্রেক্ষাপটে বণিক বার্তাসহ দেশের সকল গণমাধ্যমের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—আপনারা অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে পূর্বের তুলনায় আরো বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান খাতের অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এভিয়েশন খাতে বিদ্যমান সমস্যা এবং তা নিরসনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *