বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্যাপনে বিশেষ আয়োজন ঢাকা :বাংলাদেশের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ বংশীবাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেডের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘আইকনিক টিউজডে’-এর বিশেষ পর্বে একক বাঁশি পরিবেশন করবেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে এই বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনটিতে আমন্ত্রিত অতিথি, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ আর্টিস্ট ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। ছয় দশকের সঙ্গীতসাধনাওস্তাদ আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ বাঁশি সংগীতের অন্যতম বিশিষ্ট সাধক। তাঁর সঙ্গীতজীবনের পরিধি ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। তার জীবন ও সঙ্গীতসাধনার অন্যতম ব্যতিক্রমী দিক হলো—ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় সমুদ্রগামী জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। সমুদ্রযাত্রার দীর্ঘ ও নির্জন সময়ে বাঁশিই ছিল তার অন্যতম নিত্যসঙ্গী। তার প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীতচর্চার সূচনা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আর্য সঙ্গীত সমিতির শিক্ষক পণ্ডিত প্রিয়দ রঞ্জন সেনগুপ্তের কাছে। পরবর্তীতে তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী ওস্তাদ বেলায়েত আলী খান ও ওস্তাদ বাহাদুর খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। পরে পণ্ডিত পন্নালাল ঘোষের শিষ্য পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুদ্দেশ্বর এবং পণ্ডিত ভি.জি. কার্নাডের কাছ থেকেও শেখার সুযোগ পান। তবে কিংবদন্তি বংশীবাদক পণ্ডিত পন্নালাল ঘোষই ছিলেন তার প্রথম ও প্রধান অনুপ্রেরণা। প্রায় ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতসাধনায় নিমগ্ন রয়েছেন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সঙ্গীত সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে একক বাঁশি পরিবেশন করেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুর বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে। তিনি ভারত, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীত আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে তার একক বাঁশি পরিবেশিত হয়েছে। ২০২০ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত Rotary International Peace & Culture Summit-এর উদ্বোধন তার বাঁশি পরিবেশনার মাধ্যমে করা হয়। পরবর্তীতে Rotary India Centennial Summit 2020-এ তিনি একমাত্র বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে বাঁশি পরিবেশনের আমন্ত্রণ পান। বাংলাদেশেও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তার একক বাঁশি পরিবেশনার আয়োজন করেছে। সম্মাননা ও স্বীকৃতিসঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হলো ২০১৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত ‘একুশে পদক’। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ-২০২১, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছ থেকে অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৭ সালে তার সঙ্গীতজীবন, গৌরবময় অর্জন ও সাফল্য নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে বিশেষ সম্মাননা, স্মারক প্রদর্শনী ও একক বাঁশি পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। ‘আইকনিক টিউজডে’: সঙ্গীত, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সংযোগআর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেডের ‘আইকনিক টিউজডে’ শুধু একটি নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশনা নয়; এটি দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা, শিল্পীজীবন ও সাংস্কৃতিক অবদানকে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং শিল্পের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংগীতের সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে এই আয়োজন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি Post Views: 51 Post navigation নভেম্বরেই আংটিবদল সারবেন সাহেব এবং সুস্মিতা? প্রশ্ন শুনে কী বললেন ‘তিলোত্তমা’র নায়িকা?