ডাইসেরথ আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়ার্ড হিউজ মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী। হেগেমেন বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাগেল সে দেশেরই ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

নিউটার্ন ডেস্ক :

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি (ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট কমিটি)। অপটোজেনটিক্স সংক্রান্ত গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকার কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পেটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল যৌথ ভাবে ২০২৬ সালের চিকিৎসা-নোবেলের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।

আলোর সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেলের মাধ্যমে কী ভাবে স্নায়ুকোষ (বিশেষত মস্তিষ্কের নিউরোন)-কে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন এই ত্রয়ী। পুরস্কার হিসেবে ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা) ভাগ করে দেয়া হবে তাদের মধ্যে। ডাইসেরথ আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়ার্ড হিউজ মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী। হেগেমান বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাগেল সে দেশেরই ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।আনন্দবাজার ডট কম

হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল এককোষী শৈবালে ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামক একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন, যা কোষকে আলোর প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। পরবর্তী সময়ে ডাইসেরথ এই প্রোটিনটিকে স্নায়ুকোষের জন্য একটি আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট জীবন্ত কোষ বা নিউরনের কার্যকারিতা মিলিসেকেন্ডের নিখুঁত মাপে চালু বা বন্ধ করা যায়। নাগেল এবং হেগেমানের আবিষ্কার করা আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিনকেডাইসেরথ স্তন্যপায়ী প্রাণীর (যেমন ইঁদুর) জীবন্ত মস্তিষ্কের নিউরনে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করেন। তিনি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অপটিক্স (আলোকবিদ্যা)-এর মেলবন্ধনে তিনি যে নতুন প্রযুক্তির জন্ম দেন, তাকেই বলা হয় অপটোজেনেটিক্স।

নোবেল কমিটির দেয়া তথ্য বলছে এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক সাফল্য মস্তিষ্ক ও চোখের চিকিৎসায়। মস্তিষ্কের কোটি কোটি নিউরনের মধ্যে কোন রোগটির জন্য কোন নির্দিষ্ট নিউরোন-সার্কিট দায়ী, তা আগে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব ছিল। অপ্টোজেনেটিক্সের মাধ্যমে গবেষকরা এখন সুনির্দিষ্ট ভাবে দেখতে পাচ্ছেন কী ভাবে কোষগুলির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি পার্কিনসন্স, অ্যালঝাইমার্স এবং মৃগীর (এপিলেপ্সি) মতো জটিল ব্যাধির উৎস বুঝতে সাহায্য করছে। অন্য দিকে, চোখের রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা বা স্টারগার্ট ডিজ়িজের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, যাদের চোখের আলো-সংবেদনশীল কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের রেটিনার অন্যান্য অবশিষ্ট কোষকে কৃত্রিম ভাবে আলো-সংবেদনশীল কোষে রূপান্তর করা যাচ্ছে। মার্কিন-জার্মান ত্রয়ীর গবেষণার উপর ভিত্তি করে অপ্টোজেনেটিক জিন থেরাপির মাধ্যমে ইতিমধ্যে অন্ধ মানুষের দৃষ্টিশক্তি আংশিক ফিরিয়ে আনার সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *