দিনাজপুর প্রতিনিধি :দেশে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশই প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্বেও সেবা পান না।শনিবার সকালে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)র সহযোগিতায় এক আলোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়।অর্জিত অভিজ্ঞতা শোনা : প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ব মানসিক দিবস উপললক্ষ্যে সকালে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি র্যালী বের হয়। র্যালীটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহিদ ডা. আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোছা: সাদরাতুন মুমতাহিনা, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো: সিরাজুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর আলম, জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদমান সাকিব, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জলধী নাথ রায়, সিডিডির প্রজেক্ট সুপারভাইজার ময়নুল ইসলাম, সিডিডির প্রজেক্ট ফিল্ড ম্যানেজার মুকুল কিস্কু, কেয়ারার তাপসী রানী, লায়লা, ফারহানা, মোশাররফ, মানসিক অসুস্থ্য ব্যক্তি মকিমুল, হোসনে আরা প্রমুখ।এ সময় জানানো হয়, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী-দেশে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ প্রয়োজন থাকা সত্বেও কোন সেবা পান না। দেশে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সংকট রয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা সদরে সেবা সীমাবদ্ধ, ফলে গ্রামীন জনগোষ্ঠী মানসিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত।বক্তারা বলেন মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শারীরিক অসুস্থ্যতা যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তেমনি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা বা বিষন্নতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারসহ নানা কারনে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। সামাজিক অপবাদ ও কুসংস্কার, সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচ হলো মানসিক স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রয়োজনের সময় একজন মানুষের পাশে দাড়ানো, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া সচেতনতার পরিচয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, ওষুধ ও পরিবারের সহায়তায় মানসিক অসুস্থ্যতা কার্যকরভাবে মোকাবেলা সম্ভব। মানসিক অসুস্থ্য ব্যক্তির পাশে দিনরাত পরিচর্যা করেন তাদের মা, স্ত্রী বা বোন। তাদেরও যত্ন ও সেবার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।। Post Views: 30 Post navigation ৪২ বিজিবি “দিনাজপুর এবং ঠাকুরগাঁও” জেলার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট, মদ উদ্ধার দিনাজপুরে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় বর্ণাঢ্যগোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা