ঢাকা : মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং পারস্পরিক কল্যাণভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে মিশর আরব প্রজাতন্ত্র দূতাবাসের উদ্যোগে ‘মিশরীয় বিপ্লব দিবস’ (Egyptian Revolution Day)-এর ৭৪তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরো গভীর ও বহুমাত্রিক হবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মিশরের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত, এই দুই মহান নেতার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আজকের বাংলাদেশ-মিশর সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সমর্থন আজও আমাদের দুই দেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।তিনি মিশরের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, পর্যটন এবং ওষুধ শিল্প ও আইসিটি খাতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় মিশরের উদ্যোক্তাদের আরো বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ও আলোকিত ইসলামের এক অনন্য কেন্দ্র। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করায় তিনি মিশর সরকারকে ধন্যবাদ জানান।মন্ত্রী গ্লোবাল সাউথের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সফল জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশের নতুন সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি (Omar Mohie Eldin Ahmed Fahmy) মিশরের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি দুর্নীতি দূরীকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক মিশর গঠনে এ বিপ্লবের অবদানকে স্মরণ করেন।রাষ্ট্রদূত ২০২৬ সালের সফল নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিক্ষা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বভিত্তিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। -ত.বি. Post Views: 19 Post navigation বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করবে ৩৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছবি : প্রধানমন্ত্রী