ঢাকা :ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনের ভুয়া প্রলোভনকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মন্ত্রী আজ রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানব পাচারের শিকার সারভাইভারদের (উদ্ধারপ্রাপ্তদের) সত্য ঘটনা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ (LISTEN)-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ধ্বংস করে না, এটি সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের এই বিস্তার রুখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। ‘লিসেন’ গ্রন্থের মাধ্যমে সারভাইভারদের যে করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।চলতি বছরের ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’-এর প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’-এর প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে সীমান্ত পার করে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা প্রদান করা।মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে এই অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশীদারিত্বই পারে এই ব্যাধি নির্মূল করতে। তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য আইওএম এবং আর্থিক সহায়তাকারী সংস্থা ‘কইকা’ (KOICA)-কে ধন্যবাদ জানান।অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লিসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসকে অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়।উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ হলো দেশে পাচারের শিকার ভুক্তভোগী নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর তৈরি প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ Post Views: 16 Post navigation International Rescue Committee – Bangladesh নদী দূষণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান