দিল্লির বঙ্গভবনে মঙ্গলবার ২২ সাংসদের সঙ্গে বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাদের মধ্যে ছিলেন এনসিপিআইয়ের ১৯ জন সাংসদ। এ ছাড়া তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার ৩ বিজেপি সাংসদ ছিলেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাদের সংসদীয় এলাকার কী ভাবে উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনই দাবি করলেন এনসিপিআই সাংসদরা। এনসিপিআই কি বিজেপির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও সাংসদদের কেউই তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।আনন্দবাজার ডট কম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বঙ্গভবনের বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ ছিলেন। তাদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ১৯ জন এনসিপিআই সাংসদ ছিলেন। এ ছাড়াও বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। দুপুর ১টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালের একটি কর্মসূচির জন্য যানজটের কারণে বঙ্গভবনে পৌঁছোতে কিছুটা দেরি হয় শুভেন্দুর।

২২ জন সাংসদের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক হয় শুভেন্দুর। বৈঠক শেষে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে বৈঠক প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই বৈঠক ঘিরে জল্পনার পারদ চড়ছিল। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা, তা নিয়েও কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। যদিও বৈঠক শেষে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী জানান, এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তার কথায়, ‘‘বৈঠক খুব ভাল হয়েছে। ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠক করব।’’

শতাব্দী উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বললেও জল্পনা উস্কে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ২০ জনই আছি। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে।” কে কে আসতে পারেন, এই প্রশ্ন করা হলে রচনা বলেন, ‘‘বুঝে নিন।’’ পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, বৈঠক খুব ভাল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গাইড করেছেন। পরামর্শও দিয়েছেন। তবে সুখেন্দুশেখর এই বৈঠককে সৌজন্যমূলক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তার বাইরে বেশি কিছু মন্তব্য করতে চাননি। আর এক সাংসদ প্রকাশ চিক বারইকেরও দাবি, উন্নয়ন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে এনডিএর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মঙ্গলবার সকালে যখন সুদীপ, কাকলি, শতাব্দীরা যোগ দেন, সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এনসিপিআইয়ের তিন সাংসদআবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পঠান। তারা আগের বৈঠকেও গরহাজির ছিলেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। তবে তারা শুভেন্দুর বৈঠকে ছিলেন। এনডিএর বৈঠকে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তাহের বলেন, ‘‘আমরা এনডিএতেও নেই, বিজেপিতেও নেই।’’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *