মধ্যরাতে খাবার খাওয়ার চল রয়েছে গোবিন্দের পরিবারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কন্যা টিনা আহুজা সে কথা ফাঁস করে দিলেন। খিদে পেলে কী কী খান গোবিন্দ? এই অভ্যাস কী ভাবে ক্ষতি করে স্বাস্থ্যের?

বিনোদন ডেস্ক :

রাত বাড়লেই হঠাৎ কিছু খেতে ইচ্ছে করে। খিদে পাক না বা না-পাক, মিষ্টি, ঝাল, টক কিংবা মশলাদার খাবারের প্রতি টান তৈরি হয়। বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের এই বদভ্যাসের কথা জানালেন তার কন্যা টিনা আহুজা। তবে গোবিন্দ ব্যতিক্রমী নন, এমন বদভ্যাস অনেকরই রয়েছে।আনন্দবাজার ডট কম

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিনা জানিয়েছেন, মাঝরাতে খিদে পেলে গোবিন্দ যা সামনে পান, তা-ই খেয়ে নেন। এমনকি, রাতের বেঁচে যাওয়া ঠাণ্পা খাবারও গরম না করে খেতে তার আপত্তি নেই। কেবল গোবিন্দ নন, মধ্যরাতে এমন খাবার খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে তার কন্যা ও পুত্রের মধ্যেও। টিনার কথায়, ‘‘আমি চকোলেট খাই, ডায়েট কোক খাই। প্রচুর চিপ্‌স নিয়েও বসে যাই মাঝেমধ্যে। মা (সুনীতা আহুজা) রাতে কিছু খান না। তবে খিদে পেলে বাবা সব কিছু খেয়ে নেন। এমনকি, ঠাণ্ডা খাবার খেতেও অসুবিধা নেই তার। আর আমার ভাই (যশ) অর্ডার করে খাবার খায় রাতের দিকে।’’ অর্থাৎ প্রায় গোটা পরিবারই এই বদভ্যাসের শিকার।বি

এই অভ্যাস শুনে অনেকেরই প্রশ্ন জাগতে পারে, মাঝরাতে খাওয়ার প্রবণতা কেন বাড়ে? এ কি নিছকই বদভ্যাস? চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি শুধু কখন খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে না। কেন খাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন এবং এটি রোজের অভ্যাস কি না, সব খতিয়ে দেখে কারণ খুঁজে বার করতে হবে।

পুষ্টিবিদদের মতে, যদি সারাদিন ঠিকমতো খাবার না খান বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকেন, তা হলে রাতে বেশি খিদে পাওয়াটা স্বাভাবিক। অনেকেই দিনের বেলায় খুব কম খান, কিন্তু রাতে একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাস দীর্ঘ দিন চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যাবে, রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং হজমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়বে। তা ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্যে হেরফের দেখা গেলে সমস্যা বাড়তে পারে। ঘ্রেলিন বা খিদের অনুভূতি জাগানোর হরমোন এবং লেপ্টিন বা পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করা হরমোনই এখানে মূলত দায়ী। এই দু’টি হরমোনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঘুম এবং শরীরের জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম। সময়মতো ঘুম না হলে মধ্যরাতে খিদে পেয়ে যায়। আর এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে মন চলে যায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে। আরও একটি সমস্যা হল, রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়া। এতে অনেকের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদরা। কিন্তু মধ্যরাতে খাবার খেলে সমস্ত ছন্দ ঘেঁটে যেতে পারে।

তবে মাঝেমধ্যে নিজের মনকে আনন্দ দিতে মধ্যরাতে খাবার খাওয়াই যায়। তার মানেই যে ওজন বেড়ে যাবে, তা নয়। কতটা ক্যালোরি নিচ্ছেন, কী খাবার খাচ্ছেন, সামগ্রিক ভাবে কেমন যাপনে অভ্যস্ত, এ সবের উপর নির্ভর করে ওজন বৃদ্ধির মতো বিষয়। কিন্তু রোজ রোজ মাঝরাতে খিদে পেলে তা আদপে স্বাস্থ্যকর নয়। সে ক্ষেত্রে নৈশভোজে সমস্ত পুষ্টিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার ইত্যাদি যেন রাতে খাবারের থালায় থাকে, সে দিকে নজর দিতে হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *