মায়ের টোটকা, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পাশাপাশি স্বস্তিকা দত্তের ভরসা রয়েছে নিজের চর্মরোগ চিকিৎসকের উপর। তাই নিয়মিত তার পরামর্শ নিয়ে ত্বকচর্চা করেন তিনি। রইল তারই ঝলক। ‘অভিনয় করে খাই, ত্বকের যত্ন না নিলে চলে’? বিনোদন ডেস্ক :নিয়মিত পর্দার সামনে যেতে হয়। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে মেকআপের আ়ড়ালে। ফলে ত্বকের যত্ন যে বাধ্যতামূলক! আর সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন টলিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। আর দুর্গাপুজোর আগে সেই যাপনেরই ঝলক দিলেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথোপকথনে। মাসে দু’এক বার চর্মরোগ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জেনে আসেন নিজের ত্বকের হাল-হকিকত। ত্বক প্রবল শুষ্ক বলে এই নিয়ম মেনে চলতে হয় তাকে। পিএইচ-এর মাত্রা ঠিক আছে কি না, শরীর কত পরিমাণে তরল ধরে রাখতে পারছে, কতটা শুষ্ক হয়ে রয়েছে, এই সমস্ত কিছুর উত্তর নিয়ে আসেন তিনি। তার চিকিৎসক মনে করেন, ১০-১২টি প্রসাধনী ব্যবহার না করে মূলত দু’টি ব্যবহার করলেই ত্বক ভাল থাকে। তাই তিনি চিকিৎসকের বলে দেয়া ময়েশ্চারাইজ়ার এবং সানস্ক্রিনই ব্যবহার করেন। সানস্ক্রিন নিয়ে আবার বেশিই সচেতন স্বস্তিকা। তাই নিজের ঘরে সাজের টেবিলে একটি, হাতের ব্যাগে একটি এবং মেকআপের ব্যাগে একটি করে বোতল রেখে দেন। তা ছাড়া সপ্তাহে দু’দিন মাথায় তেল মেখে ঘুমোতে যান তিনি। আর শ্যাম্পু? সে প্রতিদিনের সঙ্গী। রোজের ব্লো ড্রাই, তাপ প্রয়োগের পরে এই ভাবেই ভাল থাকে তার চুল। ‘মেকআপ আমার কাজের অঙ্গ, সাজের নয়’ পরিচালকের ‘প্যাকআপ’ বলার অপেক্ষা থাকে মাত্র। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগপত্র নিয়ে গাড়িতে উঠে যান স্বস্তিকা। ব্যাগের মধ্যেই মেকআপ রিমুভাল কিট থাকে। গাড়িতে বসেই মেকআপ তোলার কাজ শুরু হয়ে যায়। তার পরে যদি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা থাকে, পার্লারে যাওয়ার থাকে অথবা কোনও নিমন্ত্রণ রক্ষার ব্যাপার থাকে, মেকআপ তুলে ময়েশ্চারাইজ়ার আর সানস্ক্রিন মেখে, একটু লিপবাম লাগিয়েই তিনি সেখানে উপস্থিত হন। শুটের বাইরে যথাসম্ভব কম মেকআপ প্রয়োগে বিশ্বাসী নায়িকা। ইন্ডাস্ট্রির শুরুর দিন থেকেই মা-বাবা শিখিয়েছেন, ‘‘এটা তোমার কাজ, তোমার জীবন নয়’’। নাটক পড়া, অভিনয় চর্চাকে জীবনের অঙ্গ করে তুললেও মেকআপ ও বাড়তি কোনও কাজকে তিনি বিলাসিতা বলেই মনে করেন। আর তাই রাত হোক বা ভোর, শুট থেকে ফিরে মেকআপ পুরোপুরি না তুলে ঘুমোতে যান না স্বস্তিকা। তার কথায়, ‘‘রাতের খাবার খাব না, তা-ও ভাল, মেকআপ না তুলে বিছানায় যাব না।’’ নিজের সাজ বলতে মূলত দু’টি রঙের লিপস্টিক। ‘আমার মা এত রূপসী যে ছবি পোস্ট করি না’! স্বস্তিকার আফসোস, মায়ের রূপের একাংশও নাকি পাননি তিনি। স্বস্তিকা বলছেন, ‘‘আমার মা প়ঞ্জাবি। জিনগত দিক থেকেই অপূর্ব রূপের অধিকারী তিনি। আমি তার সামনে কিচ্ছু নই। এত বছরে মাকে কোনও দিনও পার্লারে গিয়ে ফেশিয়াল করাতে পারিনি। তার পরও প্রচণ্ড সুন্দরী।’’ অভিনেত্রী মশকরা করে বললেন, সেই কারণেই নাকি মায়ের বেশি ছবি দেন না ফেসবুকে। তবে মা-বাবা বিনোদনজগৎ থেকে খানিক দূরেই থাকতে চান। ছবি পোস্ট না করার একটা বড় কারণ এটিও। মায়ের কিছু ঘরোয়া টোটকায় তার ভরসা রয়েছে ভরপুর। বাড়িতে ফলের খোসা ময়লার বালতিতে যাওয়ার আগে মুখে মাখা হয় নানা ভাবে। তা ছাড়াও জবা ফুলের তেল বানিয়ে মাথায় মাখেন স্বস্তিকার মা। হাতে সময় থাকলে তিনিও মায়ের টোটকা অনুসরণ করেন। অবশ্য মুখে চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও কিছুই ব্যবহার করেন না। ‘অ্যালার্জির পরীক্ষার পর খাদ্যাভ্যাস পাল্টে গেছে’ স্বস্তিকা তখনই খাদ্যরসিক, যখন তা ঘরোয়া, বাঙালির ছাপোষা খাবার। বাইরের খাবারের প্রতি কোনও আকর্ষণ নেই তার। তাই তিনি যা খান, তা পেটেও সয়, ত্বকেও সয়। ভিতর থেকেই সুন্দর থাকার সুযোগ পায় ত্বক। তবে কয়েক দিন আগে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার পর অ্যালার্জি টেস্ট করানো হয়। তাতে দেখা যায়, ১৩৩টি খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম আদা, চিনি, ময়দা এবং দুধ। ফলে আদা ছাড়া রান্না হয় তার বাড়িতে। প্রবেশাধিকার হারিয়েছে আদা। একফোঁটা আদা খেয়ে ফেললেই শরীর খারাপ, তা থেকে ত্বকও খারাপ হয়ে যায়। তবে দুধ এখনও আনা হয় ঘরে। তা দিয়ে কেবল বডি প্যাক বানানো হয় রূপচর্চার জন্য। দুধ, বেসন এবং চালগুঁড়ো দিয়ে সপ্তাহে এক বার ত্বকচর্চা করেন স্বস্তিকা। আউটডোর শুট থাকলে এই প্যাকটিই সপ্তাহে দু’বার গায়ে মাখেন। তবে মুখে এটি একেবারেই মাখেন না অ্যালার্জির ভয়ে। ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্নান করাই আমার শখ’ স্নান করতে বড় ভালবাসেন স্বস্তিকা। ছুটির দিনে দেড় ঘণ্টা স্নানের জন্য বরাদ্দ থাকে। ১৪টা জিনিস মেখে, গান চালিয়ে, মাথায় মাসাজ করে, কিছু যন্ত্র ব্যবহার করে স্নান করেন নায়িকা। তার কথায়, ‘‘আমি নিজের শরীরটাকে খুব ভালবাসি। আমি এখন ত্বককে যেটা দেব, ৫০ বছর পর ত্বক সেটাই আমায় ফেরত দেবে।’’ Post Views: 25 Post navigation নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এর দ্বিতীয় আসরের জন্য চলচ্চিত্র আহবান এখনও যেন ভরা যৌবন! ৫২ বছরের মলাইকা ফাঁস করলেন রূপরহস্য, নেপথ্যে রাতের বিশেষ অভ্যাস