মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন ছবি। সেখানে নানা রূপে দেখা দেবেন অভিনেতা জিৎ। তার আগে সমাজের নানা রূপ নিয়ে আলোচনায় বসলেন। আড্ডায় উঠে এল রাজনীতি থেকে সিনেমার নানা প্রসঙ্গ।

বিনোদন ডেস্ক :

প্রায় দু’বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন জিৎ। তা-ও আবার নয়া আবতারে। নতুন ছবি না এলে কোথাও বিশেষ সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায় না এই অভিনেতাকে। সাধারণত নিজেকে খানিক আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন। এর আগে যবে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তার পরে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার এসেছে। টালিগঞ্জের ইন্ডাস্ট্রিতেও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। এসেছে কাজের নতুন ধরনধারণ। সব নিয়ে কেমন আছেন জিৎ? আগামী দিনে আর কী ধরনের কাজের ভাবনা আছে একের পর এক হিট বাংলা ছবির নায়কের? প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে তার সঙ্গে আড্ডায় বসেছিল আনন্দবাজার ডট কম। তুলে দেয়া হল সেই আড্ডার অধিকাংশটাই।

প্রশ্ন: ছবির প্রচার ছাড়া জিৎ সাক্ষাৎকার দেন না, মিডিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না, আপনার বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ রয়েছে। এটা কেন?

জিৎ: আমি চাই যোগাযোগ রাখতে, ছবির মুক্তি হলেই যোগাযোগ করি। অকারণে আমি কিছু বলতে পছন্দ করি না। তবে আমি জানি, আমিও মিডিয়ার অংশ, মিডিয়া আমাদের অংশ। তাই বছরে বেশি বেশি ছবি করার চেষ্টা করি। (হাসি)

প্রশ্ন: আপনি আধ্যাত্মিক ব্যক্তি, জীবনের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতাকে কী ভাবে মেলান?

জিৎ: হ্যাঁ, আমি আধ্যাত্মিক। আমার পরিবারের সকলেই আধ্যাত্মিকায় বিশ্বাসী। আসলে বিষয়টি এক এক জনের কাছে এক এক রকম। ঈশ্বরের কাছে গিয়েও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন বা সংসারের মধ্যে থেকেও করতে পারেন। আর যদি সংসারের মধ্যে থেকে সব কর্তব্য পালন করতে পারেন, তার থেকে বড় আধ্যাত্মিক কোনও জায়গায়ই পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: প্রায় দু’বছর পর আবার বড়পর্দায় ফিরলেন। ছবির একটা সংলাপ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। তার মাধ্যমেই ফেরার বার্তা দিলেন কি?

জিৎ: সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শক আমার সঙ্গে মেলাতে পারে। বাকি ক্ষেত্রে জানি না। যার যেমন বোঝার, বুঝুন। সংলাপটা বলি বরং। (একটু হেসে) জঙ্গলে হায়না আর শেয়ালদের উৎপাত বেড়েছে, তাই এই সিংহকেই ফিরে আসতে হল!

প্রশ্ন: এ বার তো একটু অন্য রকম ছবি করলেন। কমফোর্ট জ়োন থেকে বেরোতেই কি এমন দেশাত্মবোধক ছবি বেছে নিলেন?

জিৎ: এটাও কিন্তু একেবারে বাণিজ্যিক ছবি। আর পাঁচটা বাণিজ্যিক ছবি যেমন হয়, তেমন। প্রথম ফ্রেম থেকে শেষ ফ্রেম পর্যন্ত এন্টারটেনমেন্টেই ভর্তি। টিজ়ার, গান যা যা দর্শক দেখেছে, বলছে অন্য জিৎকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। শিল্পী হিসেবে আমি চাই প্রতিটা গল্পে এটাই বলুক দর্শক। আমার লক্ষ্য সেটাই। যেমন ‘শেষ থেকে শুরু’ দেখে যাতে দর্শক মনে করে আমি এক জন বাংলাদেশি মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করেছি, আবার ‘খাকি, দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এ অর্জুন মৈত্রকে দেখে মনে করেন তিনি একজন আইপিএস অফিসার। শিল্পী হিসেবে এটাই সব ছবির ক্ষেত্রে চাহিদা থাকে।

প্রশ্ন: ছবিটি করতে গিয়ে অনন্ত সিংহের জীবনীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় কী খুঁজে পেলেন?

জিৎ: অনন্ত সিংহের জীবনের সংঘর্ষ এবং তার বলিদান নজর করার মতো। এই ধরনের চরিত্র করতে যে কোনও অভিনেতাই চাইবেন। এত রকম স্বাদ এই একটি চরিত্রের মধ্যে পেয়েছি, তা আমার সঙ্গে থেকে যাবে।

প্রশ্ন: এই ছবিতে ৯টি আলাদা লুক তৈরি করতে হয়েছে, প্রস্থেটিকও করতে হয়েছে, সেটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

জিৎ: প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট এবং ড্রেসারের। মানে সঞ্চিতা আর সোমনাথ কুন্ডুর। আমার চ্যালেঞ্জ ছিল চিত্রনাট্য অনুযায়ী চরিত্র তৈরি করা। আমি পরিশ্রম করে, হোমওয়ার্ক করে চেষ্টা করেছি আলাদা লুক তৈরি করতে। চরিত্রের জন্য শরীরী ভাষায় বদল এনেছি, কণ্ঠস্বরেও বদল আনতেমেয়ে

প্রশ্ন: আপনার ছেলে আর মেয়ের কোন লুকটা পছন্দ হয়েছে?

জিৎ: আসলে বাড়ির সকলেই খুব উচ্ছ্বসিত আমার লুকগুলো দেখে। আমার ছেলে-মেয়ে দু’জনেই দেখেছে আমার লুক। প্রত্যেকটা লুক দেখেই খুব খুশি। মেয়ে এখন অন্য লুকেও চিনতে পারে আমাকে। কিন্তু ছেলে ছোট। তাই মাঝেমধ্যে অন্য লুকে আমাকে চিনতে ওর অসুবিধা হয়। আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ হল, যে পরিচালকের লুকটা রয়েছে ছবিতে, সেটা। এই লুকটার ক্ষেত্রে আমি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির একজন পরিচালকের হাবভাব, ব্যক্তিত্ব নকল করেছি। তিনি কে, এখন তা বলব না। মানুষ দেখুক, ছবিটা সফল হোক, তার পর না হয় বলব।

প্রশ্ন: আপনি সব সময়ে মূল ধারার ছবি করে গিয়েছেন। এখন আবার দেব, অঙ্কুশ সবাই ‘মশালাদার’ ছবি তৈরি করছেন। এটাই কি বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ?

জিৎ: আসলে আমরা সবাই মূল ধারার ছবির উপযাত। সেখান থেকে সরে যাওয়া মানে শিকড় ভুলে যাওয়া। পৃথিবী জুড়ে দেখলেও মূল ধারার ছবিই ইন্ডাস্ট্রিকে বয়ে নিয়ে যায়। নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা প্রকাশের সম্ভাবনাও সেখানে বেশি আছে। অন্য ধারার ছবি কিছু মানুষের কাছে পৌঁছোয়। ‘মেনস্ট্রিম’ ছবি সব ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছোতে পারে। আমি মনে করি, যারা দর্শকের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেন, তারা আশীর্বাদধন্য। আমরা ‘মেনস্ট্রিম’ দর্শকের সঙ্গে সেই যোগাযোগ তৈরি করেছিলাম। এখন সেটা থেকে বেরিয়ে আসা ভুল হবে। তাই আমরা ব্যর্থ হতে পারি, তবু করে যেতে হবে। কিন্তু আসলে আমাদের যোগাযোগ তৈরি করে ‘মেনস্ট্রিম’ ছবি। সিনেমা তো শিল্প আর বাণিজ্যের মেলবন্ধন।

প্রশ্ন: ‘খাকি, দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ মুক্তির পর আপনার কাছে নিশ্চয়ই নানা প্রস্তাব এসেছে, একটাও গ্রহণ করলেন না কেন? সময় নিচ্ছেন?

জিৎ: মনের মতো এখনও কিছু আসেনি আমার কাছে। আসলে নিশ্চয়ই করব বা বলব। আমি ‘খাকি, দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ করার পরে প্রায় এক বছর ধরে এই ছবিটা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। আর তা ছাড়া, খুব আকর্ষণীয় কোনও প্রস্তাবও এখনও আসেনি, যা একবারেই গ্রহণ করা যায়।

প্রশ্ন: আমরা কি এর পরে জিৎকে পরিচালকের ভূমিকায় দেখতে পাব?

জিৎ: আমার এখনও পর্যন্ত কোনও পরিকল্পনা নেই। আপাতত অভিনয়ই করতে চাই। তবে ভবিষ্যৎ তো কেউ জানে না।

প্রশ্ন: টলিউডের নানা বদল হচ্ছে, সেগুলো কী ভাবে দেখছেন?

জিৎ: আগের সরকার এক রকম পরিকাঠামোয় কাজ করত। এ বার পরিকাঠামো কেমন হবে, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। নতুন সরকার এসেছে। আগে যারা ইন্ডাস্ট্রি সঞ্চালনা করতেন, তারাও অনেকে সরে গিয়েছেন। এ বার নতুন পরিকাঠামো তৈরি হোক। যাদের উপরে দায়িত্ব থাকবে, তারা কাজ করুন, সেটাই চাইব। নতুন লোকেরা জুড়লে নতুন রকম কাজ হবে। তারা কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই দেখার।

প্রশ্ন: নতুন সরকারের কাছে আর কী প্রত্যাশা আপনার?

জিৎ: খুব আশাবাদী আমি। নতুন সরকারের থেকে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। এমন অনেকে আছেন যারা বিগত কয়েক বছর ধরে চাইছিলেন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হোক। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা প্রায় ৪৯ বছর ধরে কেন্দ্রের বিরোধী থেকে গিয়েছি। এতদিন বিরোধিতাই করে এসেছি। এ বার যখন রাজ্যের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত, এ বারও যদি বাংলা উন্নতি না হয়, সত্যিই আর কবে হবে, সঠিক জানা নেই।

প্রশ্ন: জনপ্রতিনিধি বলতে আপনি কী বোঝেন?

জিৎ: জনপ্রতিনিধি হলেন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সকলের কথা তুলে ধরবেন। এই মুহূর্তে জনপ্রতিনিধি শুভেন্দু অধিকারী। তাকেই আমরা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনাকে আগামী দিনে রাজনীতিতে দেখতে পাব?

জিৎ: রাজনীতি আমি বুঝি না। এখন পর্যন্ত নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি না। যদিও ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা কেউ জানে না।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *