ঢাকা :
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লাল-সবুজ সাংস্কৃতিক একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ‘বর্ষা বরণ, গুণীজন সংবর্ধনা, আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশ গঠনে সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মননশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
আজ ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘গ্ল্যামার মিডিয়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন পরিমাপ করা সম্ভব নয়। মানুষের মননশীলতা, সুসংহত নীতি-নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধই টেকসই উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি।
ডিজিটাল সেবা (যেমন: অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, মোবাইল ব্যাংকিং) মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করলেও, নৈতিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবিক সমাজ আমাদের গড়ে তুলতে হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচার রোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইতিবাচক বার্তা ছড়ানোর কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান।
ফকির মাহবুব আনাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্য আরো বলেন, সংস্কৃতি তোমাদের আবেগের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করবে, তোমাদের ধৈর্যশীল ও সৃজনশীল করে তুলবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশ হবে বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একটি দেশ – সবার আগে বাংলাদেশ- যেখানে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি একসঙ্গে হাঁটে, যেখানে যুবসমাজ স্বপ্ন দেখে ও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে, যেখানে গুণিজনরা সম্মানিত হন এবং নতুনরা অনুপ্রাণিত হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস হয়েছে, আপনারা আমাদের কাজ করার সুযোগ দেন। আমরা কাজ করতে চাই। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য এবারের বাজেটে ৫শ’ কোটি টাকার স্টার্ট আপ ফান্ড রেখেছেন। আমরা চাই তরুণরা গবেষণায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে আসুক।
মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় সমাজে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির গুণীজনদের সংবর্ধনা প্রদানকে একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।
তরুণ প্রজন্মকে কেবল ভবিষ্যতের নাগরিক না ভেবে বর্তমানের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী তাদের পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একই সাথে ‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’ নীতি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, আমাদেরকে সমাজটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। ছেমেয়েদের নিরাপত্তার কথা বলে তাদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতির চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তরুণদেরকে নিয়ে এই দেশটাকে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ইকবাল হোসেন, এম্পোরিয়াম প্রপার্টিজ (প্রা.) লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মোঃ আরফাতুর রহমান আপেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান ও সম্প্রচার) তাসিক আহমেদ।
এছাড়া, বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠন ‘লাল-সবুজ সাংস্কৃতিক একাডেমী’র সভাপতি সাহিদা আক্তার রেশমা এবং গ্ল্যামার মিডিয়া’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুবুল হক।
অনুষ্ঠানে গ্ল্যামার মিডিয়ার সংগীত শিল্পীদের বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং গুণীজনদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং আমন্ত্রিত সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *