দিনাজপুর প্রতিনিধি॥ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের সুইহারীস্থ এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে “আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা” প্রতিপাদ্যে “জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর” শীর্ষক একটি স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), সাথী, এসআইডিপি, পল্লীশ্রী এবং গ্রাম উন্নয়ন প্রচেষ্টার যৌথ উদ্যোগে ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, যুব প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মিরা অংশ নেন।
সংলাপে স্থানীয় বাস্তবতা, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করে জাতীয় নীতিমালার সাথে স্থানীয় চাহিদার সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। সাথী-র সভাপতি মোঃ ইয়াকুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রাম উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফরিদা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব ও একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন কর্মসূচির ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জীবাশ্ম জ্বালানির অতি-নির্ভরশীলতা হ্রাস এবং সেচ, কৃষি ও সোলার প্রযুক্তিতে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের তাগিদ দেন।
সভার পরবর্তী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের টেকসই বিকাশ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। দিনাজপুর প্রেস ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, অতীতে মানহীন সোলার প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বিরূপ ধারণা কাটিয়ে সঠিক মান নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফেরানো জরুরি। দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যয়বহুল, এমন ভুল ধারণা দূর করে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে এর অর্থনৈতিক সুফল তুলে ধরতে হবে। নেসকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম হাওলাদার বলেন, নিজ কার্যালয়ে ১০ কিলোওয়াটের সোলার ব্যবহারে প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের অভিজ্ঞতা পাওয়া গেছে।
একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত প্রকল্প এড়াতে প্রতিটি সোলার উদ্যোগের পূর্বে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএ), দিনাজপুরের কর্মকর্তা অনামিকা পান্ডে বলেন, যুবদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা এবং সোলার স্থাপনের উপযোগী ভবনের নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা (বরেন্দ্র)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, অ্যাগ্রোভোল্টাইক প্রযুক্তিতে ৩,০০০টি সেচ পাম্পে সোলার সেট-আপ ও নেট মিটারিং চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা অ-সেচ মৌসুমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত আলোচনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিসিক দিনাজপুরের উপ-পরিচালক মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর বিআরবি মোঃ রাজিউর রহমান, নেসকো’র নির্বাহী পরিচালক রুবেল ইসলমা, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোফাসসেরুল মাজেদ, সিডিএ’র পক্ষ অনামিকা পান্ডে, এনজিও ফোরামের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ নাসিম, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রভাতী রানী।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সমাজ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এসইউপিক)-র নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোজাফফর হোসেন সার্বিক আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান এবং সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *