এক দিকে মির্জ়াপুর ছবির প্রচার চলছে, অন্য দিকে কলকাতা শহরে পা রাখলেন মঞ্চাভিনয়ের জন্য। স্বামী চৈতন্য শর্মার সঙ্গে ‘এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার’ নাটকে অভিনয় করলেন শহরেরই এক প্রেক্ষাগৃহে। অবসরে নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন বলিউড অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠী।

বিনোদন ডেস্ক :

এক সময়ে শালু, এক সময়ে গোলু। বার বার যেন নাম পাল্টে যায় শ্বেতা ত্রিপাঠীর। অভিনয় দক্ষতা দিয়ে এক একটি চরিত্রকে এতটাই নাকি জীবন্ত করে তোলেন তিনি। বলিউডের ‘মসান’ ছবির শালু এখন আবার মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন ছবি ‘মির্জ়াপুর’-এ গোলু হিসেবে অবতীর্ণ হবেন। ওটিটি নয়, একেবারে বড়পর্দায়। এক দিকে ছবির প্রচার চলছে, অন্য দিকে কলকাতা শহরে শ্বেতা পা রাখলেন মঞ্চাভিনয়ের জন্য। স্বামী চৈতন্য শর্মার সঙ্গে ‘এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার’ নাটকে অভিনয় করলেন শহরেরই এক প্রেক্ষাগৃহে। কাজের ফাঁকে নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন বলিউড অভিনেত্রী।আনন্দবাজার ডট কম

প্রশ্ন: ‘মসান’ না ‘মির্জ়াপুর’?

শ্বেতা: এই বাছাইয়ের কাজ বড়ই কঠিন। একটা আমার প্রথম ছবি, প্রথম সব কিছু। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে পরিচয় ‘মসান’-এর হাত ধরে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়া, পুরস্কার জেতা, সব! আর ‘মির্জ়াপুর’-এর হাত ধরে দর্শকের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছি আমি।

প্রশ্ন: ভিকি কৌশল, আলি ফজ়ল না নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকি?

শ্বেতা: খুব কঠিন! সত্যি! ভিকি আমার প্রথম ছবির সঙ্গী, সাক্ষী। দুর্দান্ত এক মানুষ। আর আলি তো আমার বন্ধু, খুব ভালবাসি ওকে। এত দিন একসঙ্গে কাজ করে পরিবারের মতো হয়ে উঠেছি আমরা। নওয়াজ়ভাই আমার প্রথম অভিনয়ের শিক্ষক। ওই সিনেমাটা তাই আমার কাছে অভিনয়ের কর্মশালা বলতে পারি। ওটা আগে শুট হয়েছিল কিন্তু ‘মসান’-এর পর মুক্তি পেয়েছিল। প্রত্যেকের জায়গা আলাদা।

প্রশ্ন: প্রিয় পরিচালক?

শ্বেতা: ‘দ্য অডিসি’ দেখলাম সদ্য। তাই ক্রিস্টোফার নোলানের কথাই মনে পড়ছে। উফ কী যে ভাল পরিচালনা! কিন্তু বলিউড বললে তার তালিকা অন্তহীন। কলেজে পড়াকালীন ‘ইকবাল’ মুক্তি পেয়েছিল। তার পর থেকে নাগেশ কুকুনুরের অনুরাগী আমি। তা ছাড়া সঞ্জয় লীলা ভন্সালী, অভিনাশ অরুণ, ‘মসান’-এর পরিচালক নীরজ ঘেওয়ান, ‘মির্জ়াপুর’-এর গুরমিত সিংহ, আরও অনেকে!

প্রশ্ন: বলিউডের কোন জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে?

শ্বেতা: ‘রকস্টার’-এ রণবীর কপূরের চরিত্র। জর্ডন চরিত্রের সফরটা ভীষণ সুন্দর। আর ইমতিয়াজ় আলির সঙ্গে কে না কাজ করতে চায়!

প্রশ্ন: নাটকের সেট না কি সিনেমার সেট?

শ্বেতা: দু’টিই!

প্রশ্ন: এমন কোনও ছবি আছে, যা বার বার দেখতে পারবেন?

শ্বেতা: ‘টাইটানিক’ এবং ‘হ্যারি পটার’।

প্রশ্ন: বাণিজ্যিক ছবি না কি সমান্তরাল ছবি?

শ্বেতা: আমার কাছে গল্প খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি দারুণ একটা গল্প তৈরি হয় বড় বাজেটে, তা হলে তা-ই সই। তাতে অনেক বেশি মানুষের কাছে সেই গল্পটা পৌঁছোতে পারে। সে তো ভালই। যেমন, ‘মসান’ কিন্তু সে ভাবে বাণিজ্যিক ছবি নয় বা ব্লকবাস্টার হিটও নয়। কিন্তু সেই গল্প যে ভাবে দর্শককে ছুঁতে পেরেছে, তা তো অকল্পনীয়। এমন গল্প হলে ১০০ বার সেটাকেই বেছে নেব। গল্প ভাল হলে বাকিটা হয়ে যায়। কেবল বাণিজ্যিক বা সমান্তরাল ছবি কেন, আমায় এখন রেডিয়োতে যদি দুর্দান্ত একটা গল্প শ্রুতিনাটক করতে বলা হয়, তা-ও করব। এই পেশাকে বেছেছি অভিনয়কে ভালবেসে। তাই সেটার সুযোগ যেখানে, আমি সেখানে।

প্রশ্ন: ‘মসান’ এবং ‘হারামখোর’-এ অভিনয়ের পরই কি এমন চরিত্রের প্রস্তাব আসতে শুরু করে, যা চিরাচরিত নয়?

শ্বেতা: হ্যাঁ, প্রত্যেক সিদ্ধান্তেরই একটা ভবিষ্যৎ থাকে। তাই আমিও ভীষণ বুঝেশুনেই এই ছবিগুলি বেছে নিয়েছিলাম, যাতে কেবল বর্তমান নয়, ভবিষ্যতেও এমনই কাজ করতে পারি।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের ছবি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে। এখনকার তরুণ-তরুণীদের কি খুশি করা কঠিন?

শ্বেতা: কঠিন বলব না। তবে ওটিটির ফলে নতুন প্রজন্মের নাগালে হাজার দেশের হাজার গল্প এসে গেছে। আগে কেবল স্থানীয় খাবারই খেতে পারতাম আমরা, এখন ওটিটি এসে যেন ব্যুফে সাজিয়ে দিয়েছে, পছন্দমতো খাবার বেছে নেয়া যাবে। তাই তারা একই গল্প, একই চরিত্র বার বার দেখতে চাইবে না, সেটাই স্বাভাবিক। গল্পে বা চিত্রনাট্যে যদি সততা না থাকে, তারা সেটা ধরে ফেলবে চট করে।

প্রশ্ন: যে সময়ে ওটিটি-র জয়জয়কার, তখন ‘মির্জ়াপুর’-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ়ের গল্প কেন হঠাৎ প্রেক্ষাগৃহে আনা হচ্ছে?

শ্বেতা: এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা গল্প, যেটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জন্যই বানানো। মির্জ়াপুর-এর সকল অনুরাগী একসঙ্গে বসে হইহই করে দেখতে পারবেন। (হেসে) ‘ঢান ঢান ঢান’ আওয়াজ হবে হলের চারদিকে, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে, এই অভিজ্ঞতার জন্যই এই ছবি বানানো। সিরিজ়ের একটি বিশেষ অংশ নিয়ে ছবির গল্প তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন: ‘মির্জ়াপুর’-এ আপনার চরিত্র গোলু গুপ্ত কি নারীবাদী? পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মাফিয়াদলের ক্ষমতায় আসা তো সহজ কথা নয়।

শ্বেতা: কোনও ধাঁচে বা ব্র্যাকেটে ফেলতে চাই না গোলুকে। কিন্তু অবশ্যই সমাজের নানা চোখরাঙানির থেকে চোখ ফিরিয়ে ক্ষমতাসীন সে। কিন্তু কোনও কিছুই স্বেচ্ছায় নয়। যখন তার স্বপ্ন এবং ভালবাসার মানুষদের কেড়ে নেয়া হয়, তখনই সে বাধ্য হয় হিংসার জগতে পা রাখতে। হঠাৎ পাওয়া এই ক্ষমতার সঙ্গে তার সম্পর্ক একটু অন্য রকম। সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে সে চায়নি। বেঁচে থাকার জন্য, প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাকে ক্ষমতাবান হতে হয়েছে। ‘ভাল মেয়ে’র সংজ্ঞা থেকে বেরোতে হয়েছে। সেই দিক থেকে অবশ্যই নারীবাদী গোলু।

প্রশ্ন: দোষেগুণে ভরা মানুষের যে বাস্তব রূপ, ওটিটি-তে কি তা আরও স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠছে?

শ্বেতা: অবশ্যই! বিশেষ করে মেয়েদের চরিত্রায়ণের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটা তৈরি হয়েছে। খুঁতে ভরা, ভুলে ভরা, বাস্তব চরিত্রে অভিনয় করার। আর এর কৃতিত্ব অবশ্যই দর্শকের। তাদের হাতে অনেক ক্ষমতা। তারা এমন ধরনের বাস্তব চরিত্রকে দেখতে চেয়েছে বলেই তৈরি হচ্ছে। যারা রাগ হলে রাগতে পারে, স্বপ্ন দেখতে পারে, অনুমতির অপেক্ষা করে না। শুধু নায়কের মা, বোন, দিদি, প্রেমিকা হয়ে বসে থাকতে হয় না। আশা করব, যেন আরও এ রকমই চরিত্রকে দেখতে চায় তারা। নারীচরিত্রের শব্দভান্ডার যেন আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে তাতে আমি বড়ই খুশি।

প্রশ্ন: ও দিকে ‘মসান’-এর ‘শালু’ একেবারে ভিন্ন। সেও কী করে এত দিন মানুষের মনের ভিতরে থেকে গেল?

শ্বেতা: ‘শালু’-র প্রবল সততাই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি। মনের কথা বলতে দু’বার ভাবে না। ‘শালু’ জানে সে কী চায়। অত সারল্য, অত সততার কারণেই নিশ্চুপে এত বছর মানুষের ভিতরে থেকে গেছে সে। তার ভালবাসার মানুষ কোন জাতের, কোন পেশার, এ সব তাকে ভাবায়নি। সমাজকে ভয় পায়নি। নীরবেই প্রবল ক্ষমতাবান সে। সব নারীর এমনই হওয়া উচিত। জানেন, ‘শালু’র কারণেই কবিতার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে আমার।

প্রশ্ন: কোন দৃশ্যটি করতে গিয়ে খুব যন্ত্রণা পেয়েছিলেন?

শ্বেতা: ‘শালু’র মৃত্যু। শুয়ে রয়েছে। চাদরে ঢাকা। তার পর দীপক (ভিকি কৌশলের চরিত্রের নাম) ওর চেহারাটা দেখতে পেল। তার পর ওর কান্না। ওই জায়গাটায় খুব কষ্ট হয়েছিল। ওখানে আমাকে অভিনয় করতে হয়নি, শুধু শুয়ে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম দৃশ্যটা। কাছের মানুষের চলে যাওয়াটা যে কতটা যন্ত্রণার! আর সেটা যত সুন্দর ভাবে লেখা হয়েছিল, তা অসাধারণ।

প্রশ্ন: জাতপাতের ভেদাভেদ, সমাজের চোখরাঙানি, এই সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই ছিল ‘মসান’-এ। সে দিক থেকে এক প্রকার প্রচারধর্মী ছবি তো বলাই চলে। আর কখনও এমন ছবিতে কাজ করবেন?

শ্বেতা: প্রচারধর্মী ছবি নিয়ে একেবারেই ভাবি না। কাজ? এখনও সুযোগ আসেনি। এলে? দেখা যাবে।

প্রশ্ন: ‘মসান’ থেকে বাণিজ্যিক ছবি কী শিখতে পারে?

শ্বেতা: এটাই যে, সব সময়ে সব কিছু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার দরকার পড়ে না। কিছু ছেড়ে দিতে হয় দর্শকদের উপরও। গল্পের মাধ্যমেই বক্তব্য পৌঁছে যায় মানুষের কাছে। ‘মসান’ দর্শকের উপর ভরসা রেখেছিল। দাগিয়ে না দিয়ে সেটাই করা উচিত।

প্রশ্ন: নাটকের জগৎ থেকে আসা শিল্পীদের কি ইন্ডাস্ট্রিতে একটু অন্য চোখে দেখা হয়? তা ভাল না খারাপ?

শ্বেতা: একটা ধারণা থাকে যে, এঁরা খুব সিরিয়াস! আর সেটা সত্যিই। আমরা কাজটাকে গুরুত্ব দিই। আর একটা ধারণা দর্শকের মধ্যে রয়েছে, নাটকের শিল্পে সিনেমার মতো জাঁকজমক নেই। এটাও সঠিক ধারণা। থিয়েটারে তো সত্যিই অভিনয় থেকে শুরু করে প্রযোজনা, পোশাক নিয়ে ভাবনা, রূপটানের দায়িত্ব, চা বানানো, চা পরিবেশন— সব নিজেদেরই কাঁধে। সেই গ্ল্যামার তো ওতে নেই।

প্রশ্ন: সিনেমাজগতে নায়িকাদের সৌন্দর্য নিয়ে এক প্রকার বাঁধাধরা, প্রাচীন ধারণা রয়েছে। সেইমতো কাজও মেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেটার সঙ্গে কী ভাবে মানিয়ে নেন?

শ্বেতা: একটাই ভাল জিনিস, রূপের সৌন্দর্য বাদ দিয়েও নিজস্বতা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা হচ্ছে আজকাল। কিন্তু মুশকিল হল, সেটাও আবার কখনও কখনও আর একটা মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এক দিকে যেমন সমাজসম্মত রূপ নিয়ে ভাবতে হয়, অন্য দিকে নতুন ট্রেন্ডসম্মত রূপ নিয়েও ভাবতে হয়। অনেকেই বলেন, সৌন্দর্য নিয়ে সমাজ বা ইন্ডাস্ট্রির ভাবনাচিন্তা আর গতে বাঁধা নয়। কিন্তু আমি বলব, তা কেবল নতুন মুখোশ পরেছে মাত্র। বিষয়টা একই আছে। নির্দিষ্ট এক প্রকারের সৌন্দর্য, সাজকে মানদণ্ড করে না ফেলাটাই আসল।

প্রশ্ন: নিজের শরীর, দেহ এবং সৌন্দর্যের সঙ্গে বোঝাপড়াটা কেমন?

শ্বেতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে গুরুত্ব দিতে শিখেছি। আগে যখন-তখন খেতাম, ঠিক করে ঘুমোতাম না। কিন্তু এখন এ সব আর শরীরে সয় না। কী খাচ্ছি, কী খাবার সঙ্গে রাখছি, কত ক্ষণ ঘুমোচ্ছি, কতটা জল খাচ্ছি, সব কিছুর দিকে ভীষণ নজর দিই। সারা জীবনে এত জল কখনও খাইনি, যা এখন খাই। আর ব্যায়ামও করি যতটা সম্ভব হয়।

প্রশ্ন: ফ্যাশনের ছাত্রী হিসেবে নিজেকে কেমন সাজাতে ভাল লাগে? বিশেষ করে ক্যামেরার বাইরের জগতে?

শ্বেতা: কমফোর্ট। স্বাচ্ছন্দ্য। এ ছাড়া কিচ্ছু নয়। যা পরে আমি নিজের মতো করে চলাফেরা করতে পারব, সেটাই আমার জন্য উপযুক্ত। আর যে ধরনের পোশাকের সঙ্গে গল্প জড়িয়ে রয়েছে, স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, তা-ই আমার পরতে ভাল লাগে। স্থানীয় শিল্পীদের কাজকে সম্মান করে তাদের থেকেও জামাকাপড় নিই আমি।

প্রশ্ন: নিরামিশাষী হয়ে গিয়েছেন কেন?

শ্বেতা: সারা জীবন আমি আমিষাশীই ছিলাম। গত তিন বছর আমি নিরামিষ খাবার খাই। এখন আমার ডায়েটে ৮০ শতাংশ নিরামিষ খাবার থাকে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই বদলটা এসেছে। কেউ আমায় বলেছে বা জোর করেছে, এমনটা নয়। এখন লাউ আর ঝিঙের কদর অনেক বেশি আমার জীবনে। আমি চাই, খাবার থেকে সম্পূর্ণ পুষ্টি পাক আমার শরীর। নিরামিষ খাবার খেতেও ভাল লাগে আমার।

প্রশ্ন: দিল্লি এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে শৈশব কেটেছে আপনার, আর সেখানে ‘দ্য গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট’-এর জন্য গাছ কাটা পড়বে, পড়ছে…

শ্বেতা: এটা উল্লেখ করার জন্য ধন্যবাদ। আন্দামান আমার মনে বিশেষ জায়গা নিয়ে রয়েছে। খবরে দেখছি, ওখানকার জঙ্গলের অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, তাকে অস্বীকার করছি না। কিন্তু যে জায়গার সৌন্দর্য তার জঙ্গলে, তাকেই ধ্বংস করে ফেললে কী করে চলবে? প্রকৃতিকে তো মা বলি আমরা। সেই মাকে তো রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই শুধু সরকারকে দোষ দিলে চলবে না, নিজেদেরও দায়িত্ববান হতে হবে। আমরা আমাদের প্রকৃতি, পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য কী করছি, এই প্রশ্নটা নিজেদের করা উচিত।

প্রশ্ন: কলকাতায় মঞ্চাভিনয় করে কেমন লাগল?

শ্বেতা: কলকাতার দর্শক দুর্দান্ত। দু’টি শো হল। প্রচুর ভালবাসা পেলাম। আর বর্ষাটা এখানে বড়ই সুন্দর। তার উপরে ‘সিয়েনা ক্যাফে’র খাবারের কথা ভুলতে পারছি না।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *