বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঐতিহাসিক সাফল্য। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জিতে দুই টেস্টের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকল বাংলাদেশ।

স্পোর্টস ডেস্ক :

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট জয় বাংলাদেশের। তা-ও চার দিনেই! ঘরের মাঠে নাজমুল হোসেন শান্তের দলের কাছে এক রকম আত্মসমর্পণ করলেন প্যাট কামিন্সেরা। ডারউইনে ৯ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টেস্টের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে শেষ হওয়ার পর জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। ১ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যান নাজমুলরা। এই জয়ের ফলে টেস্ট সিরিজ় হারের সম্ভাবনা থাকল না।আনন্দবাজার ডট কম

পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের দলে স্টিভ স্মিথ, ট্র্যাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, মিচেল স্টার্ক, জশ হেজ়লউড, নাথান লায়ন, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারে— সকলেই ছিলেন। চেষ্টার খামতি রাখেননি অস্ট্রেলীয়রা। অশান্তি পাকিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনঃসংযোগ নষ্ট করার চেষ্টাও করেছেন স্টার্করা। ২২ গজের লড়াইয়ে না পেরে মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। অফ স্টাম্পের বাইরে বিউ ওয়েবস্টারের খাটো লেংথের বলটা মোমিনুল হক বাউন্ডারিতে পাঠাতেই তৈরি হয় ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ার গর্বের টেস্ট ইতিহাসে আঁচড় কেটে দিলেন ১১জন বাঙালি ক্রিকেটার।

অস্ট্রেলীয়দের বিরুদ্ধেও যে চোখে চোখ রেখে লড়াই করা যায়, তা প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়ে ছিলেন এক বাঙালিই। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেখানো সেই পথে হেঁটেই অসাধ্যসাধন করল বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের দেয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল গত শুক্রবারই। বাকিটুকু ছিল নিয়মরক্ষার। দেয়াল লিখনের রং স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করার। নাজমুলের দল যত রঙের প্রলেপ লাগিয়েছে, তত ঘেঁটে দেয়ার চেষ্টা করেছেন স্টার্করা। অস্ট্রেলীয়দের বোঝার সময় হয়ে গেছে, শরীরী আগ্রাসন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করার দিন শেষ। ২২ গজে লাল বলের লড়াইয়ে দক্ষতাই শেষ কথা। প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিতে হয়, ক্রিকেটীয় দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়।

ডারউইন টেস্টে অসিরা বাংলাদেশের বোলিং সামলাতেই পারেননি। প্রথম ইনিংসেই নাকানি চোবানি খেয়েছেন স্মিথরা। হাসান মেহমুদ, মেহদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, তানজিদ হাসানরা অস্ট্রেলীয় ব্যাটারদের ঘরে ঢুকে তাদের পরীক্ষা নিয়েছেন। বাংলাদেশের বোলারদের নামগুলি থেকেই স্পষ্ট আয়োজকদের ব্যর্থতা। প্রতিপক্ষের জোরে বোলারদের সামনেও যেমন অস্বস্তিতে ছিলেন। তেমনই স্পিনারদের সামলাতেই সমস্যায় পড়েছেন। প্রস্তুতির অভাব বা প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখার মানসিকতা— কারণ যাই হোক, মাশুল দিতে হল টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বর দলকে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের টেস্ট জয় এই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথমবার হারায় বাংলাদেশ। সেটা ছিল ঘরের মাঠে টেস্ট জয়। ন’বছর পর দ্বিতীয় জয়টা এল প্রতিপক্ষের ঘরে ঢুকে। বাংলাদেশকে যে অস্ট্রেলিয়া বিশেষ পাত্তা দেয়নি, তা বোঝা গিয়েছিল সিরিজ়ের দু’টেস্টের মাঠ নির্বাচন দেখে। মূলত মহিলাদের ক্রিকেট ম্যাচগুলি যে সব মাঠে হয়, সেই মাঠগুলিতে টেস্ট আয়োজন করা হয়েছে। যেমন ডারউইনে প্রথম কোনও টেস্ট হল। দ্বিতীয় টেস্ট হবে ম্যাকেতে। ওই মাঠও প্রথম বার হবে টেস্ট ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খুব বেশি হয়নি ১০ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামে। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্‌থ, অ্যাডিলেড, ব্রিসবেনের মতো পরিচিত মাঠগুলিতে একটিও টেস্ট রাখা হয়নি। বাংলাদেশের এই জয় অস্ট্রেলীয়দের অবহেলারও জবাব।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করল। আবার অন্য দিকে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও যোগ করল ব্যর্থতার নতুন অধ্যায়।

(আনন্দবাজার এর দৃষ্টিতে )

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *