স্পোর্টস ডেস্ক :অস্ট্রেলিয়ার সাথে ডারউইনে চারদিনেই টেস্ট ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ অজিদের পাশাপাশি বাংলাদেশি সমর্থকদেরও কিছুটা চমকেই দিয়েছে বলা যায়।বিবিসি কারণ জুনের শেষে এই বাংলাদেশ টিমই অপেক্ষাকৃত দুর্বল জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে টেস্টে হেরেছে, তাও আবার তিন দিনের মধ্যে। ডারউইন টেস্টের প্রথম সেশন থেকেই বাংলাদেশ দল তাদের প্ল্যান অনুযায়ী খেলেছে এবং প্রতি সেশনে তাদের সেই পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে, যার প্রতিফলন হয়েছে ম্যাচের ফলাফলে। দুই ইনিংসে বোলারদের ধারাবাহিকতা আর প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের করা চারশোর বেশি রানের ওপর ভর করে চারদিনের মধ্যে নয় উইকেটে ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। আর এই রেকর্ডের পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ দল ও ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় দ্রুততম সময়ে টেস্ট জেতা দলঅস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের খেলা তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে। এর আগে শুধু ইংল্যান্ড এর চেয়ে কম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিতেছিল। ইংল্যান্ড ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে জেতে। এরপর ১৯১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ায় খেলা নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিতেছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশ এই ম্যাচে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্রুততম সময়ে বা সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে জয় পাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো। এ তালিকায় এরপরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যারা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয় পায় ৫ম টেস্টে। এছাড়া পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ায় খেলা নিজেদের ৭ম এবং ভারত ১২তম টেস্টে প্রথম জয় পায়। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শ্রীলঙ্কা ১৫ টেস্ট খেলে এবং জিম্বাবুয়ে ২ টেস্ট খেলে এখনো তাদের হারাতে পারেনি। তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় এশিয়ান খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তানজিদ তামিম। এর আগে ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের খেলা প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ। এশিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন সুনিল গাভাস্কারও, ১৯৭৭ সালে। কিন্তু ব্রিসবেনের গ্যাবায় ডিসেম্বর মাসে হওয়া ঐ ম্যাচে তার সেঞ্চুরিটি এসেছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। একইভাবে ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় খেলা নিজের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা নিজেদের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার কীর্তি রয়েছে মার্টিন ক্রো, স্যার গারফিল্ড সোবার্সের মতো কিংবদন্তীদেরও। টেস্টে পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা ইনিংসডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা পারফরমেন্সের ইতিহাস গড়েছেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ২০০৮ সালে মিরপুরে শাহাদাত হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন, যেটি এখনো বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা টেস্ট ইনিংস। এরপর দ্বিতীয় সেরা ২০২২ সালে এবাদত হোসেনের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রানে ছয় উইকেট নেয়া। হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে নয় উইকেট নিয়ে দুই ইনিংসে নয় উইকেট পাওয়া তৃতীয় বাংলাদেশি পেসারের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছেন। এর আগে শাহাদাত হোসেন আর রবিউল ইসলাম এক টেস্টে নয় উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৯৮ রানে। এরপর তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর শান্ত-মিরাজের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করে ৪২৬। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৮৪’তে আর বাংলাদেশের জন্য টার্গেট ঠিক হয় ৫৭। চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনে মাত্র এক উইকেট হারিয়েই নয় উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। Post Views: 23 Post navigation ‘অসাধ্যসাধন’ বাংলাদেশের! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অসিদের বিরুদ্ধে প্রথম জয়, ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন