বাংলা একাডেমি আ ৫ ভাদ্র ১৪৩৩/২০ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বাংলা একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের উদ্যোগে একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাকক্ষে দিনব্যাপী ‘ফোকলোর প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬’ আয়োজন করে। স্বাগত বক্তৃতা দেন ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. তপন কুমার বাগচী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ফোকলোর উপবিভাগের উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। কর্মশালার সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফোকলোর গবেষণায় আগ্রহী ৪০ জন গবেষক এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
ড. তপন কুমার বাগচী বলেন, বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রবণতার পাশাপাশি ফোকলোর গবেষণায় মাঠসমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
ড. সাহেদ মন্তাজ ফোকলোর গবেষণায় নতুন প্রজন্মের গবেষকদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কানিজ মওলা বলেন, ফোকলোর আমাদের দেশজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। নতুন প্রজন্মের গবেষকদের ফোকলোর বিষয়ক ধারণা প্রদান করতে বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত জরুরি।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে ফোকলোরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা লোকজ জ্ঞান, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, গান, গল্প, প্রবাদ-প্রবচনসহ লোকসংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় ফোকলোরের ধারণা, পরিধি, পরিচিতি ও গুরুত্ব; ফোকলোরচর্চা ও বাংলা একাডেমি; বাংলাদেশের ফোকলোরের রূপ, বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য; ফোকলোর গবেষণার পদ্ধতি এবং গবেষণা-প্রবন্ধ রচনার কৌশল বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়|
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও ফোকলোর বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ফোকলোরবিদ ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পরিবেশনকলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ফোকলোরবিদ ড. সৈয়দ জামিল আহমদ; বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ফোকলোরবিদ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ; বাংলা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক শাহিদা খাতুন এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
প্রশিক্ষণপর্বে ফোকলোর গবেষণার ক্ষেত্রে মাঠসমীক্ষা, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সংরক্ষণ, নৃতাত্ত্বিক গবেষণাপদ্ধতি এবং সংগৃহীত উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষণা-প্রবন্ধ প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়| প্রশিক্ষকরা তাঁদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও ফোকলোরচর্চার অভিজ্ঞতার আলোকে অংশগ্রহণকারী গবেষকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০ জন গবেষক এ কর্মশালায় অংশ নেন। তাঁরা ফোকলোর গবেষণার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি নিজেদের গবেষণার বিষয় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী গবেষকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণায় দক্ষতা বৃদ্ধি, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সক্ষমতা তৈরি এবং ফোকলোর গবেষণাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিনির্ভর করার ক্ষেত্রে এ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

বাংলা একাডেমি পেজ থেকে

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *