চিনি কমানোর কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন আসে— চায়ের কাপ থেকে শুরু করে পায়েস, হালুয়া বা ঘরোয়া রান্নায় মিষ্টি স্বাদ আসবে কী ভাবে? তবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমানো গেলে শরীরের জন্য তা উপকারী হতে পারে। নিউটার্ন ডেস্ক : পুজোর মরসুমের আগেই দাম বাড়ছে চিনির। বেশ কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই লাগামছাড়া দরে বিক্রি হচ্ছে তা। কলকাতায় এক কেজি চিনির দাম প্রায় ৬০-৬৫ টাকা! বিভিন্ন বাজারে আবার দামের হেরফেরও দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতির বদল না হলে পুজোর আগেই রসগোল্লা, সন্দেশের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের ইথানল-যুক্ত পেট্রল বিক্রির সিদ্ধান্তের কারণেই এমন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।আনন্দবাজার ডট কম এমনিতেই চিনির দাম বাড়ছে, তার উপরে স্বাস্থ্যসচেতনতার ধূম পড়ায় অনেক বাড়িতেই চিনির ব্যবহার কমেছে, সে কথা সত্যি। কিন্তু বাঙালিবাড়িতে রোজের রান্নায় অল্পস্বল্প চিনি ব্যবহার নিত্যকার ঘটনা। তা সে আলুর দম হোক বা মাংসের ঝোল। চা, পায়েস, চাটনির কথা না হয় না-ই তোলা হল। কিন্তু চিনির অগ্নিমূল্যের কারণে ব্যবহার আরও কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। তার চেয়ে বরং দাম বেশি হলেও স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহারই শ্রেয়। বাড়ছে চিনির দাম। কিন্তু চিনি কমানোর কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন আসে— চায়ের কাপ থেকে শুরু করে পায়েস, হালুয়া বা ঘরোয়া রান্নায় মিষ্টি স্বাদ আসবে কী ভাবে? তবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমানো গেলে শরীরের জন্য তা উপকারী হতে পারে। তাই দোকান থেকে চিনি কেনা কমাতে অন্য কিছু উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। চিনি ছাড়া মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য যে যে উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে— গুড়: ভারতীয় রান্নায় চিনির সবচেয়ে পরিচিত বিকল্পগুলির একটি হল গুড়। মিষ্টি খাবার থেকে শুরু করে কিছু রান্নাতেও এটি ব্যবহার করা যায়। গুড়ের স্বাদ খাবারে অন্য মাত্রা আনে। আখ, খেজুর বা তালের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা গুড়ে চিনির মতো খনিজ উপাদান বাদ দেয়া হয় না বলে এতে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। গুড়ের গুঁড়ো বা তরল গুড় অথবা পাটালি হিসেবেও রান্নায় ব্যবহার করা যায়। এমনকি চা-কফিতেও অনেকে গুড় ব্যবহার করেন চিনির বদলে। গুড়ও ব্যবহার করা যেতে পারে চিনির বদলে। মধু: মৌমাছিরা ফুল থেকে মধুরস সংগ্রহ করে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা রূপান্তর করে এবং মৌচাকে জমা করে। মধু খেলে গলা ব্যথা ও কাশি কমে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হজমশক্তি ভাল হয় এবং শরীর দ্রুত শক্তি পায়। এটি ত্বকের যত্নেও খুব কার্যকর। দই, চা, নানাবিধ রান্নায় এক চামচ মধু দিলেই তার স্বাদ বেড়ে যায়। খেজুর: প্রাকৃতিক ভাবেই মিষ্টি এই ফল। চিনির বদলে খেজুর খেলে শরীরও ভাল থাকে, রান্নায় স্বাদও বৃদ্ধি পায়। এটি দিয়ে মিষ্টি পদ, পায়েস, কেক, স্মুদি এবং চাটনি তৈরি করা যায়। চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে খেজুর অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুষ্টিবিদরা আবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে খেজুর খেয়ে শখ মেটাতে বলেন। এতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। খেজুর দিয়ে রান্না করতে পারেন। নারকেলের চিনি: আর একটি বিকল্প হল নারকেল থেকে তৈরি চিনি। নারকেল গাছের ফুলের কুঁড়ি থেকে সংগ্রহ করা মিষ্টি রস শুকিয়ে তৈরি হয় এটি। এতে ক্যারামেলের মতো একটি মিষ্টি গন্ধ থাকে। পায়েস, ক্ষীর বা হালুয়ার মতো মিষ্টি পদে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অল্প হলেও প্রক্রিয়াকরণ রয়েছে এর প্রস্তুতিতে। তাই সীমিত পরিমাণে খেলেই ভাল। তবে সাধারণ চিনির চেয়ে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স এতে অনেকটাই কম। কম প্রক্রিয়াজাত বলে এতে সামান্য পরিমাণে আয়রন, জ়িঙ্ক, ক্যালশিয়াম এবং পটাশিয়াম থাকে। মঙ্ক ফ্রুট: চিনির বদলে অনেকেই নানা ধরনের বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। বলি থেকে টলি তারকাদের অনেক সাক্ষাৎকারেই ইদানীং শোনা যাচ্ছে মঙ্ক ফ্রুটের নির্যাসের কথা। মঙ্ক ফ্রুট ‘লুও হান গুও’ বা ‘বুদ্ধ ফল’ নামেও পরিচিত। এটি একটি ছোট গোলাকার ফল, বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা কিউয়ির মতো। সাধারণত দক্ষিণ চিনের ফল হিসেবেই এটি পরিচিত। এতে থাকা বিভিন্ন যৌগ, মোগ্রোসাইড, শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। মঙ্ক ফ্রুট সুইটনারে কৃত্রিম উপাদান প্রায় থাকে না বললেই চলে। স্টিভিয়া: এটি মূলত উদ্ভিজ্জ সুইটনার। এর মধ্যে কোনও ক্যালোরি থাকে না এবং গ্লাইসেমিক ইনডেস্কও শূন্য। রক্তের সঙ্গে মিশে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। বাজারে তরল, গুঁড়ো এবং বড়ির আকারে স্টিভিয়া পাওয়া যায়। তাই যে কোনও রান্নায় যে কোনও উপায়ে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক তারকার পরিবারেই চিনির বদলে স্টিভিয়া ব্যবহারের চল দেখা যাচ্ছে। সুক্রালোজ়: বাজারে চিনি ছাড়া তৈরি যে সব মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয়, ক্যান্ডি পাওয়া যায়, তাতে মিষ্টি স্বাদ আনতে ব্যবহার করা হয় সুক্রালোজ়, ইরিথ্রিটলের মতো উপাদান। এগুলি খেতে চিনির মতোই মিষ্টি। কিন্তু ক্যালোরি প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে এগুলি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে বাড়তে পারে না। এগুলিও রান্নায় ব্যবহার করা যায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। খেজুরের সিরাপ: খেজুরকে ঘনীভূত করে এই সিরাপ বানানো হয়। খেজুর মিষ্টি বলেই এর থেকে তৈরি সিরাপটিও মিষ্টি হয়। চিনির পরিবর্তে সহজেই ব্যবহার করা যায়। প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে এতে। মিষ্টি ফল: ফল ও সব্জিতে প্রাকৃতিক ভাবে যে চিনি থাকে, তার সঙ্গে থাকে জল, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া যায়। ফলে সেগুলি নানা ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, কলা পিষে বা পাকা পেঁপে থেঁতো করে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে রান্নায়। এমনই নানা রকমের ফলের সন্ধান পাওয়া যাবে, যা প্রাকৃতিক ভাবে মিষ্টি। পায়েস, হালুয়া ইত্যাদির জন্য এগুলি সেরা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। Post Views: 21 Post navigation কেন জিন্নাহর স্বাস্থ্যকে ‘ভারতের গোপনতম রহস্য’ বলে মনে করা হতো?