শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সংগঠন ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পায়ার্স বলেন, ‘‘দুঃখজনক, তবু বলছি, আমরা সবে ট্র্যাজেডির শুরুটা দেখছি।’’ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গোটা গ্রামে প্রায় কোনও বাড়ি বা ইমারত আর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নেই। ভোটেকোশীতে হড়পা বানের পরে মাইলের পর মাইল শুধুই কাদার নদী। নেপালের সেই রাসুয়া গ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হল শেষ জীবিত ডিবগা তামাঙ্গকে। হেলিকপ্টারে করে আরও তিন জনের সঙ্গে তাকে তুলে আনা হয়েছে নুয়াকোটের এক শিবিরে। গ্রাম ছেড়ে আসার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ডিবগা, ‘‘আমার জন্য আর কেউ অপেক্ষা করে থাকবে না। সকলে হারিয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়েছে। সব শেষ।’’আনন্দবাজার ডট কম বুধবার সকালে নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান আসে। তা ভাসিয়ে নিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি, হিমালয়ের বুকে একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত তৈরি হয়। সেই ধ্বংসাবশেষ নদীখাতে নেমে এসে ভয়াবহ হড়পা বানের সূত্রপাত ঘটায়। শনিবার সকাল পর্যন্ত ৬১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সংগঠন ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পায়ার্স বলেন, ‘‘দুঃখজনক, তবু বলছি, আমরা সবে ট্র্যাজেডির শুরুটা দেখছি।’’ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলির ফেডারেশন-এর হিসাব, প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং জরুরি সহায়তার প্রয়োজন। সংগঠনের নেপালের প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার ওই হড়পা বানকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে বর্ণনা করেছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত নেপালের পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৬১৬। এখনও অনেকে নিখোঁজ। ফলে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালের পুলিশ শনিবার সকাল ৬টায় যে তথ্য দিয়েছে, তাতে চিতোয়ান জেলা থেকে ২৩৩টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ১৫৮টি, গোর্খা থেকে ৪৮টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ৪৭টি, ধাদিং থেকে ৪৫টি, নুয়াকোট থেকে ৪১টি, তানাহুন থেকে ৩১টি এবং রাসুয়া থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে পুলিশ এবং নেপালি সেনাবাহিনী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় চলছে প্রাণের খোঁজ। যারা আটকে পড়েছেন, তাদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। হড়পা বানের পর সীমান্তবর্তী কিছু কিছু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছোনোর আর উপায় নেই। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, নেপালে ৩২০ জন নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া বহু তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জন বাসিন্দাও নিখোঁজ। দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। Post Views: 19 Post navigation নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু ৬২৬, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার