দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশের নজর
মাহমুদুর রহমান(তুরান),ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করে কিস্তির টাকা সংগ্রহে বের হওয়ার পর গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক এনজিওকর্মির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও কাটছে না রহস্যের জট। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। পাওয়া যাচ্ছে না তার কাছে থাকা কিস্তির টাকাও। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয়—অজ্ঞাত এক ভ্যানচালক তাকে হাসপাতালে রেখে কাউকে কিছু না বলেই চলে যান।
নিহত এনজিওকর্মি আব্দুল তোহা (৩০) পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার করিম মোল্লার ছেলে। তিনি টিএসএমএস নামের একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন রায়পাড়া এলাকার মিনার মসজিদে আছর নামাজ আদায় করেন আব্দুল তোহা। নামাজ শেষে তিনি পূর্ব হাসানদিয়া এলাকায় সালমা নামের এক গ্রাহকের বাড়িতে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে যান।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গুরুতর আহতাবস্থায় এক ভ্যানচালক তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে রেখে ওই ভ্যানচালক দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে তাকে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
মোটরসাইকেল গেল কোথায়?
ঘটনার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে নিহতের মোটরসাইকেল নিয়ে। দুর্ঘটনা হয়ে থাকলে মোটরসাইকেলটি কোথায়? তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ভ্যানচালকই বা কে? তিনি কোথা থেকে আহত তোহাকে উদ্ধার করেছিলেন? হাসপাতালে রেখে কেন তিনি পরিচয় না দিয়ে চলে গেলেন?
এ ছাড়া নিহতের সঙ্গে থাকা কিস্তির টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মিরা। ফলে ঘটনাটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সহকর্মির বক্তব্য
টিএসএমএসের সহকর্মি রিয়াজ হোসেন বলেন,
“আব্দুল তোহা রায়পাড়া মিনার মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে পূর্ব হাসানদিয়ার সালমার বাড়িতে কিস্তির টাকা আনতে যান। এরপর কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। তার মোটরসাইকেলও পাওয়া যাচ্ছে না। তার কাছে কিস্তির টাকা ছিল, সেই টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ভ্যানচালককে সনাক্ত করা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও লোকেশন যাচাই এবং নিখোঁজ মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন,
“ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
এদিকে আব্দুল তোহার মৃত্যুতে সহকর্মি ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০২২ সালের জুন মাসের দিকে নুপুর সাহা নামে এক এনজিও কর্মিও হত্যার শিকার হয় রায়পাড়া হতে।আজ পর্যন্ত পুলিশ সেই হত্যার রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি।তাই এলাকার জনগণ চরম আতংকের ভিতর আছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *