শুক্রবার নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতার পা-ভাঙা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, তার কাছে নথি আছে। আন্তর্জাতিক ডেস্ক :সোমবার সকালে প্রশ্ন তুলেছিল কালীঘাটপন্থি তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটপর্বের সময় নন্দীগ্রামে আহত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে কী ভাবে এল, তা জানতে চেয়ে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছিলেন তার আইনজীবী। দুপুরে তার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নথির সন্ধানস্থল নবান্নের চোদ্দো তলায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার ড্রয়ারই কি না, উস্কে দিলেন সেই জল্পনা।আনন্দবাজার ডট কম ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে বিধানসভা ভোটের প্রচারে আহত হয়েছিলেন প্রার্থী মমতা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা অভিযোগ করেছিলেন, বিরুলিয়া বাজারে তিনি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে একটি মন্দিরে প্রণাম করার সময় চার-পাঁচ জন এসে তাকে গাড়ির দরজা দিয়ে চেপ্টে দেয়ায় পায়ে চোট পেয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে এসএসকেএমে আনিয়ে উডবার্ন ওয়ার্ডের সাড়ে ১২ নম্বর কেবিনে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেই সময়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বিতর্কের জলই গড়িয়েছে আইনি নোটিসে। যার সূত্রপাত হয় গত শনিবার। গত শুক্রবার নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতার পা-ভাঙা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, তার কাছে নথি আছে। পরের দিন, অর্থাৎ শনিবার সেই নথি দেখান মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। তার ৭২ ঘণ্টা আগে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উডবার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে গিয়ে পা ভাঙা নিয়ে ‘মিথ্যা দাবি’ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী! একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ‘মিথ্যা প্রচারে’র জন্য তদন্তও শুরু করা হবে। উপনির্বাচন মিটলেই এ সংক্রান্ত পদক্ষেপের কথা জানানো হবে। এসএসকেএমে আইনি চিঠি মমতার নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচার শুরুর ঠিক আগে শনিবারই এক জন রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কী ভাবে প্রকাশ্যে আনা হল, সেই প্রশ্নে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন কালীঘাটপন্থি তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এর পর সোমবার সকালে এসএসকেএমের অধিকর্তা মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি পীযূষ রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের নিউরোলজি (স্নায়ুরোগ বিভাগ)-র প্রধান অতনু বিশ্বাসকে আইনি চিঠি পাঠান মমতার আইনজীবী অর্ক নাগ। সেই চিঠিতে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নথি পাঠানো হলে আইনানুগ পদ্ধতি মানা হয়েছিল কি? এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠানোর কারণ প্রসঙ্গে মমতার আইনজীবী বলেন, ‘‘আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট, এক জন ব্যক্তির মেডিক্যাল রেকর্ড মুখ্যমন্ত্রীর এক্তিয়ার বহির্ভূত, যদি না তিনি তা আইনের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। আইনের মাধ্যমে হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজের পদাধিকার বলে সরকারি হাসপাতালে থাকা কোনও মেডিক্যাল রেকর্ড বার করে, সেই মেডিক্যাল রেকর্ডের পছন্দমতো দুটো পাতা দেখিয়ে সিআইডি তদন্তের কথা বলতেই পারেন, তবে সেটা আইনবহির্ভূত। কী ক্ষমতাবলে তিনি কাগজগুলো আনালেন?’’ মমতার আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেলের অনুমতি ছাড়া বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে এই তথ্য প্রকাশ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ হওয়া দরকার। অর্কের বক্তব্য, “কারও ‘জানার অধিকার’ থাকলেই তা অন্য কারও গোপনীয় চিকিৎসা-নথি দেখার বা জনসমক্ষে প্রচার করার অবাধ অধিকার দেয় না।” চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও নথিপত্র বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছিল কি না। যদি দেয়া হয়ে থাকে, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন কি না— তা-ও জানতে চেয়েছেন মমতার আইনজীবী। তার বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া না-মেনে গোটা বিষয়টি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যেন পদক্ষেপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মমতার ‘চিকিৎসা-সংক্রান্ত গোপনীয়তা’ যাতে আর লঙ্ঘিত না হয় বা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার’ না-করা হয়, তা-ও নিশ্চিত করার কথাও বলেন আইনজীবী অর্ক। শুভেন্দুর ‘জবাবে’ সিআইডি আর ড্রয়ার সোমবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কাগজ এসএসকেএমে ছিল না। কাগজ এসএসকেএমে থাকার কথা নয়। কোথা থেকে কাগজ পেয়েছি প্রয়োজনে আমি বলে দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো জানেন না, উনি কেস করেছিলেন! উনি নিজেই বিজেপির প্রলয় পালের নেতৃত্বে ‘পা ভেঙে দেয়া হয়েছে’ বলে মামলা করেছিলেন। ওই মামলা সিআইডির কাছে গিয়েছিল। তার পর কোত্থেকে কাগজ পেয়েছি আমি বলে দেব।’’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ সংযোজন, ‘‘উনি ভেবেছিলেন জিতে চতুর্থ বার এখানে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসবেন। উনি অনেক কাগজ নিজের ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন।’’ সেই ড্রয়ারেই কি তা হলে ওই নথি ছিল? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এখনই তা বলছি না, প্রয়োজন হলে বলব। আমি শুধু বলছি, উনি ভেবেছিলেন চতুর্থ বার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। অনেক কাগজ উনি বার করে নিয়ে যাননি। ওর ড্রয়ারেই অনেক কাগজ ছিল।’’ মমতার পাঠানো আইনি নোটিসের ভিত্তি নিয়েই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। সেই সূত্রেই মমতার আইনজীবীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের মাধ্যমে ওর আইনজীবীকে বলছি, ঘাঁটাঘাঁটি একটু কম করুন। বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে না বলুন। এক্স-রে প্লেট, এমআরআই যদি দেখাতে শুরু করি বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না!’’ Post Views: 25 Post navigation রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন! পুলিশের বিরুদ্ধে ‘কুকথার’ পর পরই নিয়ে যাওয়া হয় থানায়, উস্কানি দেয়ার অভিযোগ