নিউটার্ন ধর্ম ডেস্ক : মানুষের জীবন যেন এক দীর্ঘ যাত্রা। এই যাত্রায় কেউ সম্পদ অর্জনের পেছনে ছুটছে, কেউ জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে ব্যস্ত, কেউবা খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে এবং সেই সাফল্য অর্জনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে। কিন্তু জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে এসব অর্জনও একসময় অর্থহীন মনে হতে পারে। কারণ, মানুষ শুধু ভোগ করার জন্য বেঁচে থাকে না; সে জানতে চায়, কেন তার এই জীবন, কোথায় তার গন্তব্য এবং কোন পথে চললে তার জীবন সার্থক হবে।মানুষের এই চিরন্তন অনুসন্ধানের উত্তর দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম মানুষকে শুধু জীবনযাপনের উপকরণ সংগ্রহ করতে শেখায় না; বরং জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যের অধীনে পরিচালিত করতে শেখায়। পবিত্র কোরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু পার্থিব অর্জনে নয়; বরং আল্লাহর হেদায়াত গ্রহণ করে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার মধ্যেই নিহিত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ ছাড়া তাদের এমন কোনো অভিভাবক থাকবে না, যারা তাদের সাহায্য করবে। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথ নেই।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৪৬)কোনো পথ মানুষকে সাময়িক সাফল্য দিতে পারে, কিন্তু সব পথ তাকে প্রকৃত মুক্তির দিকে নিয়ে যায় না। বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে কোনো পথকে সফলতার পথ মনে হলেও তার পরিণতি হতে পারে হতাশা, নৈতিক অবক্ষয় কিংবা আত্মিক শূন্যতা। এ কারণেই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক পথ চেনা অত্যন্ত জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে একটি সরলরেখা আঁকলেন। এরপর রেখাটির ডান ও বাঁ দিকে আরও কয়েকটি রেখা টানলেন। তারপর মাঝের রেখাটির ওপর হাত রেখে বললেন, ‘এটি আল্লাহর পথ।’ এরপর তিনি পবিত্র কোরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ‘আর নিশ্চয়ই এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথ অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না; তাহলে সেগুলো তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫৩)বস্তুগত উন্নতি সব সময় মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করে না। মানুষের হাতে অর্থ থাকতে পারে, কিন্তু মনে শান্তি নাও থাকতে পারে। তার চারপাশে অসংখ্য মানুষ থাকতে পারে, অথচ সে নিঃসঙ্গতায় ভুগতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সে সারা পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, অথচ নিজের জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকতে পারে। এর কারণ, মানুষের প্রয়োজন শুধু শরীরকেন্দ্রিক নয়; তার আত্মিক চাহিদাও রয়েছে। দেহের জন্য খাদ্য, পোশাক ও আশ্রয় প্রয়োজন। কিন্তু আত্মার জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, নৈতিকতা, আল্লাহর স্মরণ এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধি। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮) হেদায়াতের পথে চলতে গিয়ে বাধা আসতে পারে, প্রবৃত্তির সঙ্গে লড়াই করতে হতে পারে এবং কখনো ভুলও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আন্তরিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে যিনি সত্যের পথে অবিচল থাকার চেষ্টা করেন, তাঁর উচিত আল্লাহর রহমতের আশা না হারানো। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহের দিশা দেব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯) সারকথা, জীবনের পথ যত দীর্ঘই হোক, গন্তব্য সঠিক না হলে সেই যাত্রা পূর্ণতা পায় না। আর গন্তব্য সঠিক রাখার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর হেদায়াত, কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ এবং প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনা। তাই আসুন, আমরা শুধু সফল হওয়ার চেষ্টা না করে সঠিক পথে সফল হওয়ার চেষ্টা করি। এমন জীবন গড়ে তুলি, যেখানে দুনিয়ার কর্মব্যস্ততা আমাদের আখিরাত থেকে গাফেল করবে না, বরং দুনিয়ার প্রতিটি সৎকর্ম আখিরাতের পাথেয় হয়ে উঠবে।নিউটার্ন/এআর Post Views: 9 Post navigation মুজিজা কেন প্রয়োজন, কার জন্য প্রয়োজন